ধর্ম
‘ভগবান নিয়ে রাজনীতি নয়’— দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে দলেই জলঘোলা
ডিজিটাল ডেস্কঃ অক্ষয় তৃতীয়ার লগ্নে দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ। সোমবার পূর্ব বর্ধমানে ‘চায়ে পে চর্চা’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি জানান, সুযোগ পেলে তিনিও দিঘায় গিয়ে জগন্নাথদেবের দর্শন করতে চান। তবে সেই ইচ্ছার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িয়ে নেই বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “জগন্নাথদেব আমাদের সকলের। তিনি এতদূর চলে এসেছেন। আমরাও তো যেতে পারি! এ নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।” তাঁর মতে, “জগন্নাথদেবের বিশেষত্বই হল—তিনি সব দেখেন, তাঁর চোখ বড়।”
আরও পড়ুনঃপাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের: ‘বদলা হবেই, ইতিহাস থেকে মুছে যাবে পাকিস্তান
প্রসঙ্গত, দিঘায় নির্মিত রাজ্যের প্রথম জগন্নাথ মন্দিরের দ্বার খুলতে চলেছে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন। সেই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই বিশাল ধর্মীয় স্থাপনার উদ্বোধন ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে। তবে এই আয়োজনকে ঘিরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়ে ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠান বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখছে। রাজ্যের শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে যখন তীব্র সংঘাত, সেই সময় দিলীপ ঘোষের এই তুলনামূলক সংযত ও ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানকে আলাদা নজরে দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এদিন, শুধু দিঘার প্রসঙ্গেই নয়, অযোধ্যার রাম মন্দির নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “ভগবানকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা কখনওই উচিত নয়। রাম মন্দির নির্মাণের পর বিজেপির ভোট কমেছে। মন্দির ধর্মের জায়গা, রাজনীতির নয়।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে বিজেপির অন্দরেই শুরু হয়েছে জল্পনা। প্রশ্ন উঠেছে, দলে কি মতভেদের ইঙ্গিত দিচ্ছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি? না কি ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে এই মন্তব্য?
রাজনীতি আর ধর্মের সীমারেখা যখন ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে, তখন দিলীপ ঘোষের এই অবস্থান নিঃসন্দেহে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে।
