খুন
কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ের পর রাজনীতি নয়, বিধানসভায় স্পষ্ট বার্তা দিলেন ওমর আবদুল্লা
ডিজিটাল ডেস্কঃ পহেলগাঁওয়ের রক্তাক্ত হামলার ঘটনার পর বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আত্মসমালোচনায় ভরা বক্তব্য রাখলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। সোমবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে তিনি বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমারই ছিল। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে না পারায় আমি ব্যর্থ।” পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই ঘটনার রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে তিনি কোনওভাবেই রাজি নন।
কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমার রাজনীতি এতটাই নিচু হতে পারে না যে, মৃতদেহের উপর দাঁড়িয়ে আমি রাজ্য মর্যাদার দাবি তুলব। পহেলগাঁওয়ে প্রাণ হারানো ২৬ জন নাগরিকের রক্তের বিনিময়ে আমি কিছু চাইতে পারি না।”
আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে জঙ্গীহানার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আশঙ্কা রপ্তানি ব্যবসায়ীদের
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার বক্তব্য- https://x.com/ANI/status/1916759393141748130
ওমরের এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে। কারণ ২০১৯ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পর থেকে কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্য মর্যাদা ফেরানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এ বছরের নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটের বিজয়ের পর অনেকেই মনে করেছিলেন, সেই দাবি আরও জোরদার হবে। কিন্তু এমন এক মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ওমর আবদুল্লার এই বক্তব্য রাজনৈতিক সৌজন্যের বিরল উদাহরণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তিনি আরও বলেন, “২১ বছরে এমন নির্মম সন্ত্রাসবাদী হামলা কাশ্মীরে দেখা যায়নি। কীভাবে নিহতদের পরিবারের মুখোমুখি হব, তা আমি জানি না। দুঃখ প্রকাশের ভাষাও হারিয়ে ফেলেছি।”
যদিও কাশ্মীর পুলিশের নিয়ন্ত্রণ রাজ্য সরকারের হাতে নেই, সেনার কার্যক্রমও কেন্দ্রের অধীন — এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি দায় স্বীকার করেন। তাঁর মতে, “কাশ্মীরের গৃহকর্তা হিসেবে আমি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি, সেটাই আমার ব্যর্থতা।”
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলায় এখনও পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় সরকারের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিরোধীরা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা — কোনও অবস্থাতেই এই মৃত্যুকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করবেন না তিনি।
