'আর কবে শান্তি ফিরবে?' — বেতবোনায় কান্নার মুখে জাতীয় মহিলা কমিশন
Connect with us

দুর্ঘটনা

‘আর কবে শান্তি ফিরবে?’ — বেতবোনায় কান্নার মুখে জাতীয় মহিলা কমিশন

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ সংশোধিত ওয়াকফ আইন ঘিরে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া হিংসার জেরে ঘরছাড়া বহু মানুষ। সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার বেতবোনা ও সামশেরগঞ্জ এলাকায় পৌঁছল জাতীয় মহিলা কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। এলাকায় পৌঁছনোর পরই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন আক্রান্ত মহিলারা। কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা।

জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল এদিন সকালে প্রথমে পৌঁছায় বেতবোনায়। সেখানে মহিলা সদস্যদের দেখে ক্ষোভ, আতঙ্ক আর অসহায়তায় কান্নায় ভেঙে পড়েন বহু মহিলা। কেউ কেউ রীতিমতো মাটিতে শুয়ে বিলাপ করেন। তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি যে হামলা হয়েছে, তাতে ঘরবাড়ি, দোকানপাট সব হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাতে হচ্ছে। বহু মানুষ এখন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ অসাবধানতার ধাক্কা’ না কি অন্য কিছু? বিজেপি কনভয়ে সরকারি গাড়ির সংঘর্ষে প্রশ্ন

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক হিংসা নয়, ঘরে ঢুকে মহিলাদের গালিগালাজ, শ্লীলতাহানি ও নিগ্রহের ঘটনাও ঘটেছে। এদিন মহিলা কমিশনের সদস্যদের সামনে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরেন স্থানীয় মহিলারা। বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে তাঁদের আশঙ্কা, বাহিনী চলে গেলে আবারও শুরু হতে পারে হামলা। সেই কারণেই তাঁরা জাতীয় মহিলা কমিশনের কাছে এলাকায় স্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্প তৈরির দাবি জানান।

Advertisement
ads

কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইতিমধ্যেই গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। দুর্গতদের বক্তব্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশনের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, এলাকায় মোতায়েন বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেও আশ্বস্ত করেন প্রতিনিধিরা।

এদিকে, এলাকায় ফের উত্তেজনা যাতে না ছড়ায়, সে কারণে ধুলিয়ান, সুতি ও সামশেরগঞ্জে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হলেও, বাস্তবে কতটা কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

Continue Reading
Advertisement