ডিজিটাল ডেস্কঃ ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদ ঘিরে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া হিংসার জেরে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল। সুতি ও সামশেরগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জদের সরিয়ে দিল পুলিশ প্রশাসন। নতুন দায়িত্বে আনা হল পূর্ব মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমান থেকে আগত দুই অভিজ্ঞ আধিকারিককে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সামশেরগঞ্জ থানার দায়িত্বে থাকা শিবপ্রসাদ ঘোষকে অপসারণ করে সেখানে নতুন আইসি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে সুব্রত ঘোষকে, যিনি পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরে সার্কেল ইন্সপেক্টর পদে ছিলেন। অন্যদিকে, সুতি থানার ওসি বিজন রায়কে সরিয়ে সেখানে নতুন ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সুপ্রিয়রঞ্জন মাঝি, যিনি পূর্ব বর্ধমানের সদর ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত ছিলেন। সুব্রত ঘোষ সামশেরগঞ্জে দায়িত্ব গ্রহণ করায়, তাঁর পূর্বতন কর্মস্থল ভূপতিনগরে সার্কেল ইন্সপেক্টর পদে আনা হয়েছে স্বপন গোস্বামীকে।
আরও পড়ুনঃ আমাদের এইখানে এইভাবেই কাজ হয়! অনেক হিন্দু রয়েছে যারা ওয়াকাফ সদস্য: মুখ্যমন্ত্রী
পুলিশ মহলের একাংশের মত, ওয়াকফ সংশোধনী আইন প্রত্যাহারের দাবিতে জেলায় ঘটে যাওয়া অশান্তির পটভূমিকাতেই এই প্রশাসনিক রদবদল। জঙ্গিপুর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয় সুতি, সামশেরগঞ্জ এবং ধুলিয়ান সহ একাধিক এলাকায়। বিশৃঙ্খলা থামাতে নামানো হয় আধাসেনা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ঘটনাস্থলে যান রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার সহ একাধিক পদস্থ পুলিশকর্তা। হিংসার ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ২৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বদলি শুধুই প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং অশান্তির ঘটনার জন্য দায় নির্ধারণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে প্রশাসন। দুই প্রাক্তন ওসির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে বলেই পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত।