বিশ্বের খবর
বাংলার অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে নাক না গলাতে বাংলাদেশের প্রতি সতর্কবার্তা নয়াদিল্লির
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলায় সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হল কূটনৈতিক টানাপড়েন। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায় ওয়াকফ আইনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে ছড়ানো অশান্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের ইউনুস সরকার। তবে ঢাকার এই ‘অযাচিত’ উদ্বেগকে কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলার হিংসা নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্য সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং অযাচিত। আমরা এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশের উচিত, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অহেতুক নাক গলানোর পরিবর্তে নিজেদের দেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে ভাবা।”
Our response to media queries regarding comments made by Bangladesh officials on the developments in West Bengal:
🔗 https://t.co/P6DuqlRndJ pic.twitter.com/HmIai5U0Vp
— Randhir Jaiswal (@MEAIndia) April 18, 2025
ঢাকার তরফে দেওয়া বিবৃতিতে মুর্শিদাবাদের হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, “আমরা এই হিংসার ঘটনায় মুসলিমদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। একইসঙ্গে ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার অনুরোধ করছি।” ইউনুস সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই বিবৃতি প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুনঃ নতুন সরকার, পুরনো প্রেম—লন্ডনে চুপিসারে আবারও জমে উঠল BNP-জামাতের কেমিস্ট্রি!
এই প্রসঙ্গে নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের এ ধরনের মন্তব্য শুধু অনভিপ্রেত নয়, বরং এটি একটি ‘ভুল প্রচেষ্টা’, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর চলা নৃশংসতার প্রসঙ্গ থেকে নজর ঘোরানো হচ্ছে। ভারতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর যে বর্বর হামলা হয়, সেই অপরাধীরা আজও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ ধরনের মন্তব্য করার আগে ঢাকার উচিত নিজেদের দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ঠিক করা।”
প্রসঙ্গত, এই হিংসার পেছনে বহিরাগত প্রভাব থাকতে পারে বলে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে। এমনকি গোয়েন্দা রিপোর্টেও কিছু বহিরাগত মদতের ইঙ্গিত মিলেছে বলে সূত্রের খবর। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকার বা পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও পর্যন্ত এই হিংসার জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করেনি।
তবে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙে ঢাকার এমন মন্তব্য যে ভারতের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়, তা একেবারে স্পষ্ট করে দিল নয়াদিল্লি।
