দুর্ঘটনা
ট্রেনে ওঠার সময় পা কাটা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি যুবক
ডিজিটাল ডেস্কঃ চলন্ত ট্রেনে ওঠার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন এক যাত্রী। ট্রেনের তলায় পড়ে গিয়ে কাটা পড়ল তাঁর একটি পা। এবং ট্রেনের ধাক্কায় তাঁর মুখেও চোট পেয়েছেন ওই ব্যাক্তি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়া।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে, রায়গঞ্জ থানার অন্তর্গত বামনগ্রাম স্টেশনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রেজাউল হক নামে ওই ব্যক্তি টিউশনি যাবার জন্য শিলিগুড়িগামী ডিএমইউ প্যাসেঞ্জার ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। ট্রেনটি তখন চলন্ত অবস্থায় ছিল। ট্রেনে ওঠার সময়ই পা পিছলে পড়ে যান তিনি। ট্রেনের নিচে চলে যায় তাঁর একটি পা, এবং ঘটনাস্থলেই গুরুতরভাবে জখম হন ওই ব্যক্তি।
ঘটনার পরপরই রেল পুলিশ ও স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগীর অবস্থা সংকটজনক হলেও স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, অসতর্কভাবে চলন্ত ট্রেনে ওঠার চেষ্টাই এই দুর্ঘটনার কারণ।
এই ঘটনার পর রেল যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আবারও প্রশ্ন উঠছে চলন্ত ট্রেনে ওঠা বা নামার প্রবণতা নিয়ে। রেল পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ যাত্রীদের সতর্ক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে স্টেশনগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেন যাত্রার সময় সমস্ত যাত্রীকে নিয়ম মেনে উঠতে ও নামতে অনুরোধ করা হয়েছে। চলন্ত ট্রেনে ওঠা যে কতটা বিপজ্জনক, বৃহস্পতিবারের এই ঘটনা ফের সেই সতর্ক বার্তা দিয়ে গেল।
আরও পড়ুনঃ যুদ্ধ জিতলেও হার মেনেছেন ভালোবাসায়!বক্সারের সঙ্গে পরকীয়া,স্বামীর থেকে দূরে মেরি কম
অন্যদিকে, ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক যুবকের। বৃহস্পতিবার ভোরবেলা কালিয়াগঞ্জ শহরের সুকান্ত মোড় সংলগ্ন রেলগেটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত যুবকের নাম জগন্নাথ মহন্ত (৩৪)। বাড়ি শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মনিবাগ এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে রেললাইন ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন জগন্নাথ। সে সময়েই রাধিকাপুর থেকে কাটিহারগামী একটি ডিএমইউ ট্রেন আচমকাই চলে আসে তাঁর সামনে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে যান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ওই যুবক। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেল পুলিশ ও কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় জগন্নাথকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার জেরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা মনিবাগ এলাকায়। প্রতিবেশীরা জানান, জগন্নাথ মহন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। প্রতিদিনই সকালবেলা রেললাইন ধরে হাঁটতেন। কেউ ভাবতেও পারেননি, এমনভাবে প্রাণ হারাবেন তিনি।
রেল পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই দুর্ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। যাত্রী ও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন, কখনও রেললাইন ধরে হাঁটবেন না। এই ধরনের কাজ প্রাণঘাতী হতে পারে।” জগন্নাথের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া। প্রশাসনের তরফে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
