চাকরি দেওয়ার নাম করে ভিন জেলায় নিয়ে গিয়ে দম্পতিকে খুন, পুলিশের জালে অভিযুক্ত
Connect with us

Uncategorized

চাকরি দেওয়ার নাম করে ভিন জেলায় নিয়ে গিয়ে দম্পতিকে খুন, পুলিশের জালে অভিযুক্ত

Dipa Chakraborty

Published

on

নিজস্ব সংবাদদাতা, ইটাহার, ১৪ মে : উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে চাকরি দেওয়ার নাম করে যে দম্পতিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হল বৃহস্পতিবার রাতে।

প্রায় পাঁচ দিনের মাথায় মালদা জেলার গাজোলে একটি বাড়ি থেকে নিখোঁজ গৌতম সরকার ও স্ত্রী তাপসি সরকারের মৃতদেহ উদ্ধার করে আনে ইটাহার থানার পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বাঙ্গার এলাকায়। ঘটনায় অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি তুলেছেন এলাকার বিধায়ক মোশারফ হোসেন ও মৃতদের পরিবারের সদস্যরা। জানা গিয়েছে, ইটাহার থানার মারনাই অঞ্চলের বাঙ্গার এলাকার বাসিন্দা রামরঞ্জন সরকারের ছেলে গৌতম সরকার ও তার স্ত্রী তাপসি সরকারকে নার্সিং চাকরি করে দেবে বলে এলাকার বাসিন্দা বিজেপি সমর্থক বলে পরিচিত কৃষ্ণকমল অধিকারী এক বছর আগে চার লক্ষ টাকা নেয়। জমি বিক্রি বাবদ ১৮ লক্ষ নেয়। যদিও জমি সরকারিভাবে এখনও বিক্রি করে নি সে। এরপর গত ৪ মে কৃষ্ণকমল অধিকারী রামরঞ্জন সরকারের বাড়িতে এসে বলে ছেলে ও স্ত্রীকে ট্রেনিংয়ের জন্য শিলিগুড়িতে পাঠিয়ে দিতে। সেই মতো ৮ মে গৌতম সরকার ও তার স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তার সঙ্গে। কিন্তু গত ৯ মে কৃষ্ণকমল অধিকারী বাঙ্গার বাড়িতে ফিরলেও ওই দম্পতি ফেরে নি। সন্দেহ হওয়ায় তাকে জিঞ্জাসা করা হলেও কোনো সদুত্তর দেয় নি। এমনকি ওই দম্পতির মোবাইল ফোনের সুইচড অফ থাকায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের। বাধ্য হয়েই গত ১১ মে ইটাহার থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয় তার বিরুদ্ধে। এরপরেও কোনো খোঁজ খবর না মেলায় গত ১২ মে অভিযুক্তের বাড়ির সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা৷ এরপর বৃহস্পতিবার রাতে মালদা জেলার গাজোলে একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ দম্পতির মৃতদেহ৷ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নাম করে কৃষ্ণকমল অধিকারী অনেকদিন আগে কয়েক লক্ষ টাকা নেয় আমাদের কাছ থেকে। এরপর চাকরি কেন হচ্ছে না তা নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আমার একমাত্র ছেলে ও স্ত্রীকে নার্সিং ট্রেনিংয়ের জন্য শিলিগুড়ি নিয়ে যাবে বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কিন্তু মালদার জেলার গাজোলে গৌতম সরকার ও স্ত্রী তাপসি সরকারকে খুন করে দেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এঘটনায়

কৃষ্ণকমল অধিকারীর ফাঁসির দাবি তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।’ এদিকে এই ঘটনা নিয়ে অভিযুক্তর কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হুসেনও। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত কৃষ্ণকমল অধিকারী বিজেপি কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত। অত্যন্ত প্রতারক ব্যক্তি। এই জোড়া খুনের নেপথ্যে সে সরাসরি জড়িত। আমরা তার ফাঁসি চাই। শুক্রবার রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃতদেহর ময়না তদন্ত হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত কৃষ্ণকমল অধিকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন গ্রামবাসীরাও। এদিকে এই জোড়া হত্যা কাণ্ডে বিজেপির নাম জড়িয়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে দলীয় নেতৃত্ব। অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কেউ নয় বলে দাবি করেছেন বিজেপির জেলা সভাপতি বাসুদেব সরকার। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কৃষ্ণকমল অধিকারীকে গ্রেফতার করেছে ইটাহার থানার পুলিশ। শুক্রবার ধৃতকে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে তোলা হয়।