দেশের খবর
গ্রেপ্তার ৫ জঙ্গি, পাক হ্যান্ডলারের নির্দেশেই চলছিল দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতের (India) একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা জঙ্গি (Terrorist) নেটওয়ার্কের ওপর বড়সড় আঘাত হানল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল (Delhi Police Special Cell)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযানে ধরা পড়েছে মোট ৫ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি।
জানা গিয়েছে, এরা সকলে আইসিস (ISIS)-এর সঙ্গে যুক্ত। মূল চক্রী বলে চিহ্নিত হয়েছে আশার দানিশ (Ashar Danish) নামে এক যুবক, যার বাড়ি ঝাড়খণ্ডের বোকারো (Bokaro, Jharkhand)-তে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে দক্ষিণ দিল্লি থেকে আফতাব এবং আবু বকর ওরফে সুফিয়ান (Aftab & Abu Bakar alias Sufiyan)-কে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয় ঝাড়খণ্ডে। সেখান থেকেই ধরা পড়ে আশার দানিশ।
রাঁচীর লোয়ার বাজার (Lower Bazar, Ranchi) থেকে ধৃত দানিশের কাছ থেকে যা উদ্ধার হয়েছে, তা রীতিমতো ভয় ধরানোর মতো। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—
-
দেশি পিস্তল (Desi Pistol)
-
কার্তুজ (Cartridges)
-
হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (Hydrochloric Acid)
-
নাইট্রিক অ্যাসিড (Nitric Acid)
-
কপার শিট, বল–বিয়ারিং, তার ও সার্কিট বোর্ড (Copper Sheet, Ball Bearings, Wires, Circuit Board)
-
ল্যাপটপ, মোবাইল ও নগদ টাকা (Laptop, Mobile, Cash)
পুলিশের দাবি, এই সমস্ত উপকরণ আইইডি বিস্ফোরক (IED Explosives) তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হতো।
পাশাপাশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য— পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের (Pakistani Handlers) সঙ্গে এনক্রিপ্টেড অ্যাপের (Encrypted Apps) মাধ্যমে যোগাযোগ করত এই চক্র। তাদের নির্দেশেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মীয় উসকানি ও সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছিল।
দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, হায়দরাবাদ এবং রাঁচি—এই চার রাজ্যে সক্রিয় ছিল জঙ্গি চক্রের নেটওয়ার্ক। এমনকি তারা স্লিপার সেল (Sleeper Cell) অ্যাক্টিভ করেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দানিশ শুধু নিজে বিস্ফোরক তৈরি করত না, অন্যদেরও এই কাজে প্রশিক্ষণ দিত। উদ্ধার হওয়া সব কেমিক্যাল ও সামগ্রী ইতিমধ্যেই ফরেন্সিক পরীক্ষার (Forensic Test) জন্য পাঠানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বড় নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল বলেই আশঙ্কা করছে তদন্তকারী সংস্থা। তবে সময়মতো পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করে সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেই দাবি দিল্লি পুলিশের।


