মুর্শিদাবাদ
ওয়াকফ আইন ঘিরে মুর্শিদাবাদে হিংসা, কেন্দ্রের রিপোর্ট তলব রাজ্যের কাছে
ডিজিটাল ডেস্কঃ ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদকে ঘিরে মুর্শিদাবাদে ভয়াবহ হিংসার ঘটনা রীতিমতো উদ্বেগ বাড়িয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে। শনিবার রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে জরুরি বৈঠক করেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র সচিব। সেই বৈঠকে কেন্দ্রের তরফে গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয় রাজ্যের কাছে।
সূত্রের খবর, হিংসা ছড়ায় প্রথমে জঙ্গিপুরে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী, এলাকাজুড়ে ১৬৩ ধারা জারি থাকলেও জনতা শুক্রবার বিকেল থেকেই ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়ে, এমনকি বোমাবাজির অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। পাল্টা হিংসা আরও ছড়িয়ে পড়ে—জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সরকারি ও বেসরকারি বাস, অ্যাম্বুল্যান্স। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী বিএসএফ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংঘর্ষে বিএসএফের গুলিতে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত বহু।
আরও পড়ুনঃ ওয়াকফ ঘিরে অশান্তি, আদালতের নির্দেশে মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী
রাজ্যের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়েছে, “এলাকায় চাপা উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়।” ডিজি রাজীব কুমার কেন্দ্রকে জানান, ইতিমধ্যেই ১৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ৩০০ জন বিএসএফ জওয়ান ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদে মোতায়েন রয়েছে। রাজ্যের অনুরোধে আরও ৫ কোম্পানি জওয়ান পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, রাজ্যের অন্যান্য স্পর্শকাতর জেলাগুলিতেও কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেকোনওরকম অশান্তির আভাস পেলেই যেন তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র সচিবের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা পরিস্থিতির উপর কেন্দ্রের সরাসরি নজর রয়েছে। রাজ্য যদি আরও কোনও রকম সাহায্য চায়, কেন্দ্র তার জন্য প্রস্তুত। ওয়াকফ আইন প্রত্যাহারের দাবিকে কেন্দ্র করে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের মধ্যেও উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে—বিশেষ করে হিংসা ও মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে পরিস্থিতি কত দ্রুত শান্ত হয়, এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।
