রাজনীতি
ওয়াকফ ঘিরে অশান্তি, আদালতের নির্দেশে মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী
ডিজিটাল ডেস্কঃ ওয়াকফ ইস্যু ঘিরে উত্তেজনায় থমথমে মুর্শিদাবাদ। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। শনিবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে শান্তি রক্ষায় সহযোগিতা করবে। বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, “মানুষের নিরাপত্তাই সর্বাগ্রে। নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের পক্ষে নয়, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করাই মূল উদ্দেশ্য।
শুভেন্দুর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর বক্তব্য থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছে। তিনি জনসমক্ষে বলেন, “অশান্তি ছড়ানো হবে।” আইনজীবীর বক্তব্য, মুর্শিদাবাদে গতকাল আমতলা থানায় কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর থেকে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। এমন অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব নয় বলেই কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন। রাজ্যের তরফে আইনজীবী পাল্টা দাবি করেন, “১৩৮ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন এডিজি পদমর্যাদার অফিসার ঘটনাস্থলে রয়েছেন। রাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃ মুর্শিদাবাদে অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার ১১৮! জখম ছাত্রকে আনা হল কলকাতায়
তবে আদালত রাজ্যের এই ব্যাখায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। বিচারপতি সৌমেন সেন বলেন, “আমরা চাই মানুষ নিরাপদ থাকুক। অতীতে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা কিংবা অন্যান্য সংবেদনশীল ঘটনায় আদালত কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে। এ ক্ষেত্রেও সীমিত সময়ের জন্য সেই ব্যবস্থা কার্যকর করা প্রয়োজন।”
আদালত রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যার জন্য ৩০ মিনিট সময় দেয়। যদিও তৎক্ষণাৎ নির্দেশ জারি করে জানিয়ে দেয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মুর্শিদাবাদে মোতায়েন থাকবে। প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে বলে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ওয়াকফ বোর্ডের জমি সংক্রান্ত দাবি, ধর্মীয় নেতাদের বক্তব্য এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ—সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মুর্শিদাবাদে এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই রাজ্য ও কেন্দ্রের প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত নতুন মাত্রা পেল।
