হামলা
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই বহরমপুরে তৃণমূল গোষ্ঠী সংঘর্ষ, গুলি-বোমায় জখম তিন
ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ মুর্শিদাবাদ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তার ঠিক আগের রাতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বহরমপুর (Berhampore)। শহরের মধুপুর এলাকায় এক ক্লাবে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রবল সংঘর্ষে চলল এলোপাথাড়ি গুলি। গুরুতর জখম হন অন্তত তিনজন তৃণমূল নেতা-কর্মী। ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা শহর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে বহরমপুরের মধুপুর (Madhupur) এলাকার একটি ক্লাবে স্থানীয় তিন তৃণমূল নেতাকে ঘিরে ফেলে একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, তারাও শাসকদলেরই সদস্য। প্রাথমিক বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে। ক্লাবের ভেতরে চেয়ার, লাঠি, এমনকি পিস্তলের বাট দিয়ে চলে মারধর। এরপর শূন্যে ছয় থেকে সাত রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। জখম হন মিঠু জৈন (Mithu Jain), দেবজ্যোতি রায় (Debjyoti Roy) ও আরও এক জন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পরেই বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ গিয়ে তদন্ত শুরু করলেও অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক।ঘটনাটি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরে। সাধারণ মানুষের মতে, এটি শাসক দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরেই ঘটেছে। এলাকায় তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে।
আরও পড়ুনঃ ধুলিয়ানের ঘটনার পর প্রশাসনিক হাল ধরতে মুর্শিদাবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
জখম মিঠু জৈন বলেন, “হঠাৎ দেখলাম পরিচিত কয়েকজন ছেলের দল এসে গুলি চালাতে শুরু করে। ওদের প্রায় সবাইকে আমি চিনি। জানি না, কোথা থেকে এত আর্মস পাচ্ছে। আমি নিজে তৃণমূল করি, কিন্তু এমন তৃণমূল কোনও দিন করিনি। মাথায় পিস্তলের বাট দিয়ে মেরেছে, চার জায়গায় ফেটেছে আমার।” তিনি আরও বলেন, “সুমন চৌধুরি (Suman Chowdhury), যিনি ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুব সভাপতি, তিনিও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। এভাবে দলটাকে শেষ করে দিচ্ছে ওরা।”
আক্রান্ত দেবজ্যোতি রায়ের (Debjyoti Roy) কথায়, “প্রথমে ওরা নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করছিল। মিঠু দা বাধা দিতে বলায় সেখান থেকে চলে যায়। কিন্তু আধ ঘণ্টা পর ফের ফিরে এসে আমাদের উপর চড়াও হয়। চেয়ার দিয়ে মারধর করে, গুলি চালায়। ক্লাবের সবকিছু ভাঙচুর করে দেয়।”
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের অপর গোষ্ঠীর এক নেতা। তাঁর দাবি, “মিঠু জৈন এখন আর দলের কেউ নন। তিনি লেঠেল বাহিনী নিয়ে ক্লাবে হামলা চালান। ওখানে নানা অসামাজিক কাজ হয়। পুলিশ তদন্ত করুক, দোষীদের শাস্তি হোক।”
এই ঘটনার জেরে প্রশাসনিক মহলেও রীতিমতো অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের ঠিক আগেই তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলে এমন গুলি চলার ঘটনায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বও উদ্বিগ্ন বলে সূত্রের খবর।
