দেশ
কোভিশিল্ডের দুই ডোজের ব্যবধান বাড়ানোর প্রস্তাব কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কমিটির
নিউজ ডেস্ক , ১৩ মে : দেশজুড়ে আঁচড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা উর্ধ্বমুখী পাশাপাশি বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ রোধে শুরু হয়েছে টীকাকরণ। মোট দুটি করে টীকা দেওয়া হচ্ছে দেশবাসীকে।
প্রাথমিকভাবে করোনার টিকা কোভিশিল্ডের দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান রাখা হয়েছিল ২৮ দিন। কিন্তু পরে দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়েছিল কেন্দ্র। ২৮ দিনের পরিবর্তে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের ব্যবধানে কোভিশিল্ড নেওয়া যাবে বলেই জানিয়েছিল কেন্দ্র। এই মর্মে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে চিঠিও দিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। তবে এবারে সেই ব্যবধান আরোও বাড়ানোর প্রস্তাব দিল কেন্দ্রীয় সরকারের প্যানেল ন্যাশনাল টেকনিকাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ইমিউনাইজেশন (NTAGI)। আর যাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা যেন সুস্থ হওয়ার পর থেকে ছয়মাস অপেক্ষা করেন। এমনটাই বলা হয়েছে ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসরি গ্রুপ অন ইমিউনাইজেশনের তরফ থেকে। করোনা থেকে সেরে ওঠার অন্তত ৬ মাস বাদে টিকা নেওয়ার সুপারিশ ইতিমধ্যেই NEGVAC অর্থাৎ টিকাকরণে জন্য কেন্দ্রের তৈরি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে করোনা নেগেটিভ হওয়ার ১৪ দিন বাদেই টিকার নেওয়ার জন্য আবেদন করা যায়।
শুধু করোনা আক্রান্তদের টিকা নেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণই নয়। আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সুপারিশ করেছে কেন্দ্র নিযুক্ত এই বিশেষজ্ঞ প্যানেল। যেমন সন্তান প্রসবের কতদিন বাদে টিকা নিতে পারবেন মহিলারা অর্থাৎ কতদিন বাদে প্রসূতির শরীরে টিকা সবথেকে কার্যকরী হবে সে বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছে এই প্যানেল। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী মহিলাদের ভারতে প্রচলিত ভ্যাকসিনগুলি থেকে একটি বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। এছাড়াও কোভিশিল্ডের দুটি টিকার মধ্যেও ব্যবধান নিয়ে নয়া সুপারিশ করেছে এই কমিটি। এই প্যানেল বৃহস্পতিবার জানায়, কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ নেওয়ার ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া যাবে। সম্প্রতি এক নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, দ্বিতীয় ডোজ দেরিতে দিলে করোনায় আক্রান্তদের মৃতের হার কমবে। যদিও ৬৫ বছরের কম লোকেদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য। সেখানে এও জানানো হয়েছে, পরিস্থির উপর নির্ভর করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
