‘তথ্য নেই’ বলছে এসএসসি, তবু হলফনামা জমা দিল কীভাবে? প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
Connect with us

কলকাতা

‘তথ্য নেই’ বলছে এসএসসি, তবু হলফনামা জমা দিল কীভাবে? প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) হাতে ‘যোগ্য’ এবং ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের নির্ধারণ করার মতো তথ্য নেই—নিজেরাই একথা জানায় এসএসসি। ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়। কিন্তু তথ্য না থাকলে এত দিন ধরে কলকাতা হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া বহু হলফনামা ও তালিকার উৎস কী? সেই প্রশ্নই এবার সরাসরি উঠে এল দেশের শীর্ষ আদালতে।

২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কপূরের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে জানায়, এসএসসি প্রথমে যেসব ওএমআর শিট এবং প্রাপ্ত নম্বরের তথ্য কোর্টে জমা দিয়েছিল, তখন কিন্তু একবারও ‘তথ্যের অভাব’-এর কথা বলা হয়নি। এই পর্যবেক্ষণের পরেই বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত বলেন, “এসএসসি এত দিন ধরে যে সব তথ্য আদালতে দিচ্ছিল, সেগুলোর উৎস কী? তা কি আদৌ তখন ছিল, নাকি পরে তা মুছে ফেলা হয়েছে? এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের দাবি রাখে।”

আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেও, চাকরিতে যাবেন না ‘যোগ্য’ চাকরিহারারা

প্রসঙ্গত, এসএসসি আগে প্যানেল এবং ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীদের নম্বর প্রকাশ করেনি। আদালতের নির্দেশে ২০২২ সালের মে মাসে সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এত দিন তথ্যভান্ডার না থাকলে, তখন কীভাবে সেই তালিকা তৈরি হয়েছিল—সে প্রশ্নে ফের সরগরম আদালত চত্বর।

Advertisement
ads

আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, এই তদন্ত হলে এসএসসি-র দায়িত্বে থাকা প্রাক্তন কর্তাদের ভূমিকা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠতে পারে।
অন্যদিকে, তথ্য জানার অধিকার আইনে চাকরিপ্রার্থীদের উত্তরপত্রের প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছিল—এসএসসি দাবি করেছিল, তারা নিজের তথ্যভান্ডার থেকেই তা দিয়েছে। পরে আদালতে আবার জানায়, ওই কপি এসেছে সিবিআই-এর বাজেয়াপ্ত করা ডেটা থেকে। এতে কার্যত বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগও উঠছে কমিশনের বিরুদ্ধে।

এসএসসি-র চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “আমরা কোর্টকে তথ্য দিয়েছিলাম। কিন্তু কোর্ট সেটায় সন্তুষ্ট হয়নি।” এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে, আবারও প্রশ্ন উঠছে—এসএসসি আদৌ চায় কি না, যোগ্যদের যথাযথভাবে চাকরি দিতে? বঞ্চিত প্রার্থীরা এখন চাইছেন, গোটা তথ্য লোপাট ও বিভ্রান্তির বিষয়টি নিয়ে শুরু হোক স্বতন্ত্র তদন্ত।