ধর্ম
মহাকুম্ভের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দিঘায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, টেন্টে দমকল প্রস্তুত
ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে এক গুচ্ছ নির্দেশিকা প্রদান করেছেন, যা ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিন অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা, অতিথি অ্যাপায়ণ এবং জনসমাগমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সহায়ক হবে। বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই বিষয়গুলি তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে মহাকুম্ভ মেলায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “মহাকুম্ভে অনেক মানুষ মারা গেছে, সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।” দিঘা মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে এই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে জন্য তিনি একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুনঃ দিঘা জগন্নাথ ধামে সোনার ঝাড়ুর ব্যবস্থা, মমতার ৫ লক্ষ টাকার দান
নিরাপত্তা ও জনসমাগমের ব্যবস্থা:
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যার মধ্যে সব অতিথি ও কর্মকর্তারা দিঘায় পৌঁছে যাবেন। দিঘায় তিনটি এয়ার কন্ডিশনার হ্যাঙ্গার স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে মোট ১৩,৫০০ অতিথির বসার ব্যবস্থা থাকবে। প্রথম হ্যাঙ্গারে ৬,০০০ অতিথি, দ্বিতীয় হ্যাঙ্গারে ৪,০০০ অতিথি, এবং তৃতীয় হ্যাঙ্গারে ৩,০০০ অতিথির বসার ব্যবস্থা রাখা হবে। প্রতিটি হ্যাঙ্গারে ডিসপ্লে স্ক্রিন থাকবে, যাতে অতিথিরা অনুষ্ঠানের প্রতি মুহূর্ত উপভোগ করতে পারবেন।
অতিরিক্ত জনসমাগম এড়ানোর জন্য ব্লকে ব্লকে এলইডি স্ক্রিন লাগানো হবে এবং যজ্ঞ স্থলে শুধুমাত্র অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারবেন। সঙ্গে, অতিথিদের জুতো ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না, সেগুলি ক্লোকরুমে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ ব্যবস্থা:
প্রতি টেন্টের সামনে দমকলের ব্যবস্থা রাখা হবে এবং দমকলের বাইকও প্রস্তুত রাখা হবে। বড় গাড়ি সংখ্যা ২২টি রাখা হয়েছে, যেগুলি জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার হবে। রেল স্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে এবং ভিড় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রয়োজন হলে স্টেশন ফাঁকা করা হবে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হেলথ ক্যাম্প ও অ্যাম্বুল্যান্স থাকবে। ভারত সেবাশ্রম সংঘের কাছে ভলান্টিয়ারদের জন্য অনুরোধ করা হবে, যারা ক্যাম্প ও হোল্ডিং এরিয়ার দায়িত্ব সামলাবেন। ২৯ এবং ৩০ তারিখে বয়স্কদের জন্য গ্রিন কারের ব্যবস্থা থাকবে, এবং মন্দিরের সামনে জুতো পরে প্রবেশ করা যাবে না।
অতিথি ও শিল্পপতিদের জন্য ব্যবস্থা:
শিল্পপতিদের জন্য কনভেনশন সেন্টারে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে তাঁরা থাকবেন এবং তাঁদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। খাবারের জন্য টাকা গ্রহণ করা হবে, কিন্তু বিনামূল্যে টেন্ট কটেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েরা অতিথিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করবেন।
মন্ত্রীদের উপস্থিতি ও প্রস্তুতি:
২৭ এপ্রিল থেকে দিঘায় থাকবেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, পুলক রায়, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু এবং ইন্দ্রনীল সেন। তারা অনুষ্ঠানের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতিতে সহায়তা করবেন।
