খুন
ফের নৃশংস খুন বারুইপুরে! মীমাংসার নামে ডেকে কিশোরকে এলোপাথাড়ি কোপ
ডিজিটাল ডেস্কঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন ও একই পুকুর থেকে আরও এক ব্যাক্তির মৃত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, ফের এক কিশোর হত্যাকাণ্ডে (Homicide) অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল এলাকা। ফুটবল ম্যাচ জেতার ‘মাশুল’ দিতে হলো প্রসেনজিৎ বিশ্বাস (১৭) নামের এক দশম শ্রেণির ছাত্রকে। বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে খুন করার অভিযোগ উঠল বিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রে (Battleground) পরিণত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার বারুইপুরের ফুলতলা এলাকার সীতাকুণ্ডের মাঠে একটি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল। সেই খেলায় প্রসেনজিতের দল জিতে যায়। ম্যাচ জয়কে কেন্দ্র করে মাঠেই দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাক-বিতণ্ডা (Altercation) হয়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি মিটে গেছে মনে হলেও, সোমবার মীমাংসার (Resolution) কথা বলে প্রসেনজিৎ ও তার বন্ধুদের পালপাড়া ব্যাঙ্ক সংলগ্ন এলাকায় ডেকে পাঠায় পরাজিত দলের সদস্যরা। সেখানে পৌঁছাতেই আচমকা প্রসেনজিতের ঘাড়, গলা ও বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারা হয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হয় তার এক বন্ধুও।
রক্তাক্ত অবস্থায় প্রসেনজিৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা চম্পট দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিশোরের মৃত্যুর খবর ছড়াতেই বাসিন্দাদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৩ অভিযুক্তকে আটকে রেখে স্থানীয়রা ‘গণধোলাই’ (Mob lynching) দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে।
অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার দাবিতে উত্তেজিত জনতা হাসপাতালের সামনের রাস্তা অবরোধ (Road blockade) করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয় যখন ক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালের ভেতরে থাকা পুলিশ ক্যাম্পে ভাঙচুর (Vandalism) চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে, নামানো হয় র্যাফ (RAF) এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি (IG) কঙ্করপ্রসাদ বারুই। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। ফুটবল খেলার বিবাদ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পুরনো শত্রুতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত (Investigation) শুরু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ।
