প্রতারণা
অভিযোগ করতে গিয়ে নারকীয় হামলার শিকার, থানার মধ্যেই ছোঁড়া হল অ্যাসিড
ডিজিটাল ডেস্কঃ অভিযোগ জানাতে এসে থানার মধ্যেই ভয়াবহ হামলার শিকার হলেন এক যুবতী। রবিবার রামপুরহাট থানায় ঘটে যাওয়া এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনও।
সূত্রের খবর, একাধিক হুমকির পর রবিবার যুবতী তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে রামপুরহাট থানায় অভিযোগ জানাতে আসেন। অভিযোগ ছিল তাঁর প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছিলেন বলে জানা যায়। যুবতীর অভিযোগ, তাঁকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন অভিযুক্ত প্রাক্তন স্বামী। এমনকি রবিবার সকালেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন ওই ব্যক্তি। এরপরই যুবতী মায়ের সঙ্গে থানায় হাজির হন।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যায় শোকস্তব্ধ রায়গঞ্জ: পরীক্ষার চাপ কি প্রাণ কেড়ে নিল?
থানায় বসে থাকা অবস্থায়, আচমকা অভিযুক্তও সেখানে প্রবেশ করে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নিজেও অভিযোগ জানাবে বলে থানায় ঢোকে সে। ঠিক তখনই ঘটে বিপর্যয়। অভিযোগ, যুবতীর সঙ্গে থাকা মায়ের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তা ভেঙে ফেলে অভিযুক্ত। এরপর চলে হাতাহাতি। যুবতীর মা আহত হলে পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে পাঠায়। সেই সময় থানার মধ্যেই বসেছিলেন যুবতী। তখনই প্রাক্তন স্বামী আচমকা একটি বোতল থেকে তরল ছুড়ে মারেন তাঁর মুখের দিকে। পরবর্তীতে জানা যায়, সেটি অ্যাসিড ছিল।
স্থানীয় রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আহত যুবতীকে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর মুখ ও শরীরের একাংশ পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ঘটনার পরেই অভিযুক্তকে থানার মধ্যেই পাকড়াও করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অ্যাসিড হামলা, শারীরিক নির্যাতন এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ সুপার আমনদীপ জানান, “অভিযুক্ত থানা চত্বরে ঢুকে এই হামলা চালায়। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেফতার করেছি। তদন্ত শুরু হয়েছে।” ঘটনার পর থানার নিরাপত্তা ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে তিনজন পুলিশকর্মী উপস্থিত ছিলেন, সেখানেই যদি এমন হামলা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
বর্তমানে থানার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও গাফিলতি থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তে উঠে আসবে।
