অফ ফর্ম, মানসিক চাপ, গম্ভীরের আগমন—অবসরের নেপথ্যে কী রয়েছে?
Connect with us

খেলার খবর

অফ ফর্ম, মানসিক চাপ, গম্ভীরের আগমন—অবসরের নেপথ্যে কী রয়েছে?

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। সোমবার সকালেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা দিয়ে লাল বলের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। যদিও এমন একটি সম্ভাবনার গুঞ্জন আগে থেকেই ঘুরপাক খাচ্ছিল ক্রিকেট মহলে, তবে এতটা হঠাৎ ঘোষণা চমকে দিয়েছে সকলকেই। ইংল্যান্ড সফরের প্রাকমুহূর্তে তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী থাকতে পারে?—উঠে এসেছে পাঁচটি সম্ভাব্য কারণ।

১. ফর্মে ভাটা:

সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স বিরাট-মানদণ্ডে হতাশাজনকই বলা চলে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শেষ সিরিজে (Border-Gavaskar Trophy) করেছেন মাত্র ১৯০ রান। একমাত্র পারথে একটি শতরান ছাড়া উল্লেখযোগ্য ইনিংসের অভাব ছিল। তার আগের বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড সিরিজেও রানখরা দেখা গিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ টেস্ট থেকে সরে দাঁড়াতে অনড় বিরাট, রোহিতের পর দ্বিতীয় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে

২. টেস্টের ধকল আর নিতে পারছিলেন না:

টানা পাঁচ দিনের খেলার মানসিক ও শারীরিক চাপ যে কোহলির ওপর প্রভাব ফেলছিল, তা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকেই জানা গিয়েছে। ৩৬ বছর বয়সে শরীর ও মন—দুয়েরই ক্লান্তি ছিল প্রকট। এমনকি শোনা গিয়েছে, অজিদের বিরুদ্ধে শেষ সিরিজেই সতীর্থদের তিনি বলেছিলেন, “এটাই আমার শেষ।”

Advertisement
ads

৩. বোর্ডের সঙ্গে মনোমালিন্য:

সাম্প্রতিক সময়ে বিসিসিআইয়ের (BCCI) সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক উত্তপ্তই ছিল। রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) সরে যাওয়ার পর কোহলি টেস্ট অধিনায়কত্বে ফিরতে চাইলেও বোর্ড তা নাকচ করে দেয়। বিসিসিআই তাঁকে টেস্ট না ছাড়ার অনুরোধ করলেও, সিদ্ধান্ত বদলাননি তিনি।

৪. গম্ভীরের উপস্থিতি:

নতুন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) সঙ্গে কোহলির সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন নয়। যদিও বাইরে থেকে দু’জনেই সৌহার্দ্য বজায় রাখেন, তবু দলের অন্দরমহলে সেই চোরা দ্বন্দ্বের কথা অনেকেই জানেন। সিনিয়রদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার বার্তা দিয়ে গম্ভীর ঘুরপথে চাপও সৃষ্টি করেছিলেন।

৫. নতুনদের সুযোগ করে দেওয়া:

বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মের উত্থান, বিশেষ করে শুভমান গিল (Shubman Gill) ও যশস্বী জয়সওয়ালদের (Yashasvi Jaiswal) উন্নতি দেখে অনেকেই ধারণা করছেন, কোহলি হয়তো সচেতন ভাবেই সরে দাঁড়িয়েছেন, যাতে পরবর্তী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে নতুন মুখরা নিয়মিত সুযোগ পায়। ঠিক যেমন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর রোহিত ও কোহলি একসঙ্গে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছিলেন।

একটা যুগের অবসান ঘটল টেস্ট ক্রিকেটে। মাঠে বিরাট কোহলির আগ্রাসী উপস্থিতি, টেস্টকে ঘিরে তাঁর আবেগ—সবটাই যে এক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি, তা বলাই বাহুল্য। সামনে হয়তো আরও দায়িত্ব অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য—ভিন্ন ভূমিকায়।

Advertisement
ads