হামলা
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরুর আগেই আবার মোদি-ডোভালের বৈঠক
ডিজিটাল ডেস্কঃ পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা যে চরমে উঠেছে, তা আর অজানা নয়। সেই প্রেক্ষাপটেই মঙ্গলবার সকালে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval) পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) বাসভবনে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। যদিও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সূত্রে ইঙ্গিত— পাকিস্তান (Pakistan) ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠনের হামলার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়।
জানা গিয়েছে, ডোভাল এই বৈঠকে পহেলগাঁও হামলার তদন্ত, পাকিস্তানের মদত এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান— এই তিনটি দিক নিয়েই বিশদ রিপোর্ট দেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
আরও পড়ুনঃ সীমান্ত উত্তেজনার মাঝে দেশজুড়ে মহড়া, পশ্চিমবঙ্গের ২৩ জেলায় কেন্দ্রের নির্দেশে সতর্কতা প্রস্তুতি
স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে, গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) পহেলগাঁওয়ে ধর্ম জিজ্ঞাসা করে হত্যা করা হয়েছিল ২৫ জন পর্যটক ও স্থানীয় এক বাসিন্দাকে। তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার মূল ষড়যন্ত্র পাকিস্তানের মাটিতে রচিত হয়েছিল। এরপর থেকেই বারবার প্রধানমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— ‘‘জঙ্গিদের এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’’
এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রস্তুতির দিকেই এগোচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর আগেই প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh), তিন বাহিনীর প্রধান এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করেছেন। সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে জঙ্গিদমন অভিযানে। আরব সাগরে নৌসেনা ইতিমধ্যেই সামরিক মহড়া শুরু করেছে, পাশাপাশি বায়ুসেনা এবং স্থলসেনাও নিয়োজিত হয়েছে কৌশলগত প্রস্তুতিতে।
এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে যুদ্ধ-প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৭ মে থেকে ২৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বড়সড় অসামরিক মহড়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চল— দুই ক্ষেত্রেই চলবে এই ড্রিল। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সুরক্ষা, ব্ল্যাকআউট, উদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার কৌশলই হবে এই মহড়ার মূল লক্ষ্য।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অজিত ডোভালের ফের বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, পাকিস্তান সীমান্তে সংঘাতের আশঙ্কা যে বাড়ছে, তা কেন্দ্রের প্রতিটি পদক্ষেপেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
