হাই কোর্ট
আইনসভা বনাম বিচারব্যবস্থা? বিতর্কের কেন্দ্রে সুপ্রিম কোর্টের সংবেদনশীল মন্তব্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক হিংসা ঘিরে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলে ফের উত্তাল হল রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিসর। এই আবেদনের জবাবে সুপ্রিম কোর্টে বসে গম্ভীর পর্যবেক্ষণ করলেন বিচারপতি বি আর গভাই, যিনি আগামী মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির আসনে বসতে চলেছেন। বিচারপতি গভাই বলেন, “আমরা যদি এই বিষয়ে কোনও নির্দেশ দিই, তাহলে অভিযোগ উঠবে বিচারব্যবস্থা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে।”
এই পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ আদালতের বক্তব্য শুধু মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই নয়, বরং বিচারব্যবস্থা ও আইনসভার সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। কিছুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, সংসদে পাশ হওয়া বিল দীর্ঘদিন আটকে রাখতে পারেন না রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালরা। তিন মাসের মধ্যে তাঁদের মতামত জানাতে হবে। সেই নির্দেশকে ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।
আরও পড়ুনঃ সপ্তাহখানেক পার! আগের মতই ছন্দে ফিরছে মুর্শিদাবাদ, খুলল স্কুল-কলেজ
উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় কড়া সুরে আদালতের এই পর্যবেক্ষণের বিরোধিতা করে বলেন, “বিচারব্যবস্থা যেন ১৪২ ধারা ব্যবহার করে পরমাণু বোমা ফাটাচ্ছে।” এরপর একাধিক বিজেপি নেতা—সাংসদ নিশিকান্ত দুবে, দীনেশ শর্মা ও অগ্নিমিত্রা পল—একযোগে বিচারব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, “যদি আদালতই দেশ চালায়, তবে সংসদের প্রয়োজন কী?”
এই প্রেক্ষাপটে বিচারপতি গভাইয়ের মন্তব্য বিচারব্যবস্থার পক্ষ থেকে একটি সংযত ও সুস্পষ্ট বার্তা বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল। আইনজীবী বিষ্ণু শংকর জৈনের করা রাষ্ট্রপতি শাসনের আবেদন শুনে বিচারপতিরা জানান, কোনওভাবেই তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে নির্দেশ দিতে পারেন না। সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা করাই তাঁদের কর্তব্য।
ওয়াকফ আইন সংশোধন ও তার জেরে সৃষ্ট হিংসা সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বিচারপতি গভাইয়ের বেঞ্চে। প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে এমন একটি জটিল মামলায় তাঁর অবস্থান সুপ্রিম কোর্টের ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণেও বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।
