সোশ্যাল মিডিয়া
প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগে সিপিএমে ঘূর্ণিঝড়
ডিজিটাল ডেস্কঃ সিপিএমের অন্দরে ফের চাঞ্চল্য। প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে সরব হলেন দলেরই এক মহিলা নেত্রী। হুগলির ডানকুনিতে আয়োজিত রাজ্য সম্মেলনের পর থেকেই জল্পনা ছিল, তবে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক অডিও ক্লিপ এবং বার্তার স্ক্রিনশট নতুন করে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
মুর্শিদাবাদের ওই নেত্রী, যিনি একসময় জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার কাউন্সিলর ছিলেন, জানিয়েছেন— দলীয় এক আলোচনার সূত্র ধরে প্রাক্তন সাংসদের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। শুরুতে তা সাধারণ রাজনৈতিক বিনিময় থাকলেও ধীরে ধীরে তা গড়ায় অশালীন বার্তা এবং ব্যক্তিগত স্তরে অনভিপ্রেত আচরণে। তাঁর অভিযোগ, বংশগোপাল নিয়মিত অশ্লীল মেসেজ পাঠাতেন মেসেঞ্জারে এবং হোয়াটসঅ্যাপে।
আরও পড়ুনঃ আইনসভা বনাম বিচারব্যবস্থা? বিতর্কের কেন্দ্রে সুপ্রিম কোর্টের সংবেদনশীল মন্তব্য
এও জানান, তিনি গত বছর নভেম্বরেই বিষয়টি জেলার সিপিএম নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। ভিযোগকারিণীর বক্তব্যের জবাবে বংশগোপালের দাবি, এটি তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পরিকল্পিত চক্রান্ত। তাঁর মতে, দলের ভেতরেই একটি ‘লবি’ সক্রিয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে সুযোগ চাইছিলেন ওই নেত্রী, আমি না বলায় এই অভিযোগ আনা হয়েছে।’’
এদিকে রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছেন, এই অভিযোগ বর্তমানে দলের ‘ইন্টারনাল কমপ্লেন কমিটি’র অধীনে তদন্তাধীন। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানান, রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর মধ্যেই আরও এক নতুন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে দলে চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা জেলার যুব নেতৃত্ব নির্বাচনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ নিয়েও ক্ষুব্ধ দলের একাংশ। এই জটিল পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। সিপিএমের এক প্রবীণ নেতার মতে, ‘‘নেতৃত্বের এই নীরবতা আমাদের সংকটকে আরও গভীর করছে। ভোট নেই, সংগঠনেও বিভ্রান্তি। দল কোথায় যাচ্ছে, বুঝতে পারছি না।’’
