দেশের খবর
বাংলার নামে ভুয়ো ছবি প্রচার! রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ কলকাতা পুলিশের
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তেজনার ছায়া। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে ভুয়ো ছবি শেয়ার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে মামলা রুজু করল কলকাতা পুলিশ। সোমবার কলকাতা পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ন’টি ছবির কোলাজ। যেটি প্রথমে পোস্ট করা হয় রাজ্য বিজেপির অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে। একই ছবি পরে দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। কোলাজে দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনাগুলিকেই তুলে ধরা হয়েছে এই ছবির মাধ্যমে।
কিন্তু বাস্তব ছবিটা একেবারেই আলাদা। কলকাতা পুলিশের ‘ফ্যাক্ট চেক’ বিভাগ তদন্তে নেমেই জানতে পারে— ওই ন’টি ছবির মধ্যে একটিও পশ্চিমবঙ্গের নয়। কিছু ছবি আসামের, কিছু কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ ও লখনউয়ের। এমনকী জলন্ধরের একটি অগ্নিকাণ্ডের ছবিও সেখানে ছিল, যেটিকে বাংলার সাম্প্রদায়িক হিংসার ছবি বলে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃমঙ্গলবার রাতে দিল্লি পৌঁছবে চাকরিহারাদের বাস, আগামীকাল ধরনা-প্রতিবাদ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে রাজ্য বিজেপি। ফ্যাক্ট চেকের তথ্য সামনে আসতেই সুকান্ত মজুমদার নিজের প্রোফাইল থেকে ওই পোস্ট মুছে ফেলেন। যদিও এতে বিতর্ক থামেনি। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এই ধরনের কাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এটাই আমাদের দাবি।”
এর পরেই কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় এক্স হ্যান্ডেল চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল বিভ্রান্তির দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “যদি কারও মনে হয় ভুয়ো কিছু ছড়ানো হয়েছে, তাহলে আদালতের দ্বারস্থ হোক। আইন যা বলবে, সেটাই হবে।” তাঁর এই বক্তব্যে রাজ্য শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রচার বন্ধে নজিরস্বরূপ পদক্ষেপ হিসেবে এই মামলার রেজিস্ট্রেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের প্রাক্কালে ডিজিটাল মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা আগামীতেও দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। এই ধরনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশাসনের সক্রিয়তা রাজ্যে তথ্যের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
