ভাইরাল খবর
রায়গঞ্জে মানবিক নববর্ষ, চক্ষুদানের শপথে ইতিহাস গড়লেন বাবা-মেয়ে
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলা নববর্ষের সকালে এক অভিনব এবং মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল রায়গঞ্জ শহরের সেনগুপ্ত পরিবার। পয়লা বৈশাখের পুণ্যলগ্নে বাবা এবং মেয়ে একসঙ্গে চক্ষুদানের শপথ নিয়ে উদাহরণ গড়লেন সমাজের সামনে। চক্ষুদান সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রয়াস রীতিমতো প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয় মহলে।
রায়গঞ্জ শহরের পূর্ব নেতাজি পল্লির বাসিন্দা শ্যামল সেনগুপ্ত রায়গঞ্জ পৌরসভার একজন কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর মেয়ে স্নেহা সেনগুপ্ত সম্প্রতি মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। নববর্ষের দিন, বাবা-মেয়ে সিদ্ধান্ত নেন চক্ষুদানের মাধ্যমে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার। সরকার অনুমোদিত চক্ষুদান ফর্মে সই করে তাঁরা এই মহৎ কাজে নিজেদের যুক্ত করেন। সেই মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে আরসিটিভি সংবাদ।
শ্যামল সেনগুপ্ত বলেন, “নববর্ষ মানে নতুনকে আহ্বান করে পথচলার অঙ্গীকার। আমরা চাইছি এই নববর্ষে মানুষ ভালো কিছু করার প্রতিজ্ঞা নিক। চক্ষুদান সেই ভাল কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। দৃষ্টিহীন কাউকে আলো দেখানোর সুযোগ পেলে জীবনের তাৎপর্য আরও বেড়ে যায়।” তিনি সকলকে এই মহৎ কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
স্নেহা সেনগুপ্ত জানান, “আমার চোখ দিয়ে যদি অন্য কেউ পৃথিবীর আলো দেখতে পারে, তাহলে সেটা আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি হবে। নতুন বছরটাকে আমি একটা পবিত্র সংকল্প দিয়ে শুরু করতে চেয়েছি। এই সিদ্ধান্তে বাবার সঙ্গে একসঙ্গে থাকতে পেরে গর্ব হচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃ গানের সুরে বাংলার নববর্ষে, নবহর্ষ নিয়ে আসার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
এই মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সমাজকর্মীরাও। সংস্থার পক্ষে চন্দনারায়ণ সাহা বলেন, “একসঙ্গে বাবা-মেয়ে চক্ষুদানের অঙ্গীকার করেছেন—এটা দারুণ এক বার্তা। সমাজে এই ধরনের উদাহরণ ছড়িয়ে পড়া উচিত।” ওই ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটর রতন মজুমদার জানান, “চক্ষুদান একটি মহৎ সামাজিক দায়িত্ব। সেনগুপ্ত পরিবার যে সাহস এবং উদারতায় এই পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা সমাজের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
বর্তমান সময়ে চক্ষুদান নিয়ে মানুষের মধ্যে যে অনীহা এবং ভুল ধারণা রয়েছে, তা দূর করতে এই ধরনের সামাজিক দৃষ্টান্ত অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়ে সচেতনতা ও জনমত তৈরি হলেই দৃষ্টিহীন মানুষদের জীবনে আলো ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রয়াতের অঙ্গদান জীবিতের চোখে পৃথিবীর আলো এনে দিতে পারে—এটাই এই অঙ্গীকারের আসল বার্তা।
নববর্ষে এমন মহৎ পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে সমাজে এক ইতিবাচক দিশা দেখাল। সেনগুপ্ত পরিবার প্রমাণ করল, নতুন বছর শুধু আনন্দ আর উৎসবের নয়, বরং মানবতার চর্চারও সময়। তাদের মতো আরও মানুষ যদি এই কাজে এগিয়ে আসেন, তাহলে একদিন সমস্ত দৃষ্টিহীন মানুষরাই দেখতে পাবেন এই পৃথিবীর রঙিন রূপ।
