শিক্ষা
“সৌদি গেলে কোলাকুলি ঠিক, বাংলায় এলেই সমস্যা! প্রধানমন্ত্রীর দ্বিচারিতা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী”
ডিজিটাল ডেস্কঃ ওয়াকফ সংশোধনী আইন ঘিরে রাজ্য-রাজনীতি যখন উত্তাল, ঠিক সেই সময় কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইমাম-মোয়াজ্জেমদের এক বিশেষ সমাবেশ থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হিন্দু, মুসলিম, শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের পাশে রেখে সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি মঞ্চ থেকেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “হিন্দুদের উৎসবে সকলেই অংশ নেন, মুসলিমদের উৎসবে অংশ নিলে সমস্যা কোথায়? প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবে গিয়ে কোলাকুলি করলে তাতে দোষ হয় না, কিন্তু আমি ঈদের শুভেচ্ছা জানালে আপনারা বলবেন মমতা ইসলামে রূপান্তরিত হলেন?” এমনই মন্তব্য করেন মমতা। যদিও পরে তাঁরই সংযোজন, “সৌজন্য বোধের কারণে আমি আমার বলা ‘নরেন্দ্র ইসলাম’ শব্দটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।”
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন, “অমিত শাহকে কেউ চেনেন না। তাঁকে চেনেন যিনি গুজরাট দাঙ্গায় সক্রিয় ছিলেন। যারা দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে, তারা মানুষের রক্তের দাম জানে না।” তাঁর আশঙ্কা, ওয়াকফের পর এবার কেন্দ্র অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনতে পারে। বলেন, “সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। বাংলার মানুষ চুপ থাকবেন না।”1
আরও পড়ুনঃ আমাদের এইখানে এইভাবেই কাজ হয়! অনেক হিন্দু রয়েছে যারা ওয়াকাফ সদস্য: মুখ্যমন্ত্রী
চন্দ্রবাবু নায়ডু ও নীতীশ কুমারকে নাম করে মমতার তোপ, “ক্ষমতার লোভে অনেকে চুপ করে গিয়েছেন। আমরা চুপ থাকিনি, থাকবও না।”
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে উদ্দেশ করে মমতার কটাক্ষ, “যোগী আসলে সবচেয়ে বড় ভোগী। ওনার রাজ্যে বিরোধীদের সভা করতে দেওয়া হয় না, শিক্ষকদের চাকরি নিয়ে ছেলেখেলা হয়েছে, আর বাংলার দিকে আঙুল তুলছেন!”
সিপিআইএম-সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলির র্যালির স্বাধীনতাকে তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “বাংলায় সব রাজনৈতিক দল র্যালি করতে পারে। এখানে গণতন্ত্র বেঁচে আছে। দিল্লিতে বাঙালিদের এলাকা পর্যন্ত খাবার বন্ধ করা হচ্ছে।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে ওয়াকফ আইন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কে আরও নতুন মাত্রা যোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কাছে বার্তা পৌঁছনোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে রাজনৈতিক সংঘাতকে উসকে দিলেন তিনি।
