অন্ধকারের বলি! নিখোঁজ সাংবাদিকের অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
Connect with us

খুন

অন্ধকারের বলি! নিখোঁজ সাংবাদিকের অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তর আন্দামানে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর সাংবাদিক শাদেব দে-র অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় দেশবন্ধুনগরের দিগলিপুরের একটি মাঠ থেকে মঙ্গলবার তাঁর দেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।

৩৮ বছর বয়সী শাদেব দে ‘রিপাবলিক আন্দামান’ নামের একটি অনলাইন সংবাদপোর্টাল চালাতেন। তাঁর সাংবাদিকতা ছিল দুষ্কৃতীদের বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এক সাহসী পদক্ষেপ। অবৈধ মাটি কাটা, কাঠ পাচার, চোরাচালান, মদ তৈরির কারবার এবং জুয়ার চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছিলেন তিনি। এই কারণেই সম্প্রতি দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন শাদেব। গত ২৯ মার্চ রাতে তিনি শেষবার স্ত্রীকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তিনি মধ্যপুর এলাকায় রয়েছেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরবেন। তবে তারপর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরিবার যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হলে পুলিশে নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—

  • গঙ্গাইয়া (একটি বার-কাম-রেস্তোরাঁর মালিক)

  • রামা সুব্রমানিয়ান ও রমেশ (রেস্তোরাঁর কর্মচারী)

  • বিতিকা মালিক (স্থানীয় এক মহিলা)

আরও পড়ুনঃ ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ! প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক তৃণমূলের

পুলিশের দাবি, ২৯ মার্চ রাত ৮টার দিকে বিতিকা মালিক শাদেবকে দিগলিপুরের নেহরু যুব কেন্দ্র এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রামা সুব্রমানিয়ান। তিনি শাদেবের মাথায় আঘাত করেন, যার ফলে শাদেব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর অভিযুক্তরা তাঁর দেহ তুলে দেশবন্ধুনগরের এক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

Advertisement
ads

যদিও গ্রেপ্তারকৃতরা খুনের কথা স্বীকার করেছে, তবে তাদের বয়ানে কিছু অসংগতি রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, আদৌ কি পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে? নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে?

শাদেবের আত্মীয় অলোক বরুই বলেন, “আমরা শুনেছি শাদেবকে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে তিনি অবৈধ মদের কারবারের তথ্য ফাঁস করেছিলেন, তখনও দুষ্কৃতীরা তাঁকে আক্রমণ করেছিল। আমরা ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।” প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, হত্যার পিছনে ব্যক্তিগত কোনো কারণ থাকতে পারে। তবে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্য উদঘাটনের পথে নেমেছে তদন্তকারীরা। সাংবাদিকতার জন্য একজন লড়াকু মানুষের এমন পরিণতি, সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত হয়ে উঠছে।

Continue Reading
Advertisement