হামলা
চন্দ্রভাগার জল থামিয়ে জবাব ভারতীয় সেনার, পহেলগাঁও হামলার পর কড়া বার্তা পাকিস্তানকে
ডিজিটাল ডেস্কঃ পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হানার পর চুপ থাকেনি ভারত। কূটনৈতিক ও কৌশলগত স্তরে একের পর এক পদক্ষেপে জবাব দিচ্ছে নয়াদিল্লি। এবার পাকিস্তানের দিকে গিয়ে বয়ে যাওয়া চন্দ্রভাগা (Chenab) নদীর জলপ্রবাহ আটকাল ভারত। কাশ্মীরের রমবান (Ramban) জেলার বাগলিহার (Baglihar) বাঁধ ব্যবহার করেই এই জল আটকানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, চন্দ্রভাগা নদী ছাড়াও বিতস্তা (Jhelum) ও সিন্ধু (Indus) নদীর জল প্রবাহিত হয় পাকিস্তানে। এই জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মধ্যস্থতাকারী ছিল বিশ্বব্যাঙ্ক। কিন্তু সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সেনা কনভয়ের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর নয়াদিল্লি সেই ঐতিহাসিক চুক্তি স্থগিতের পথে হেঁটেছে।
জলবন্টন চুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু, চেনাব ও ঝেলম— এই তিনটি নদীর উপর পাকিস্তানের অধিকার রয়েছে, অন্যদিকে বিয়াস, রাভি ও শতদ্রু ভারতের অধীনে। তবে চুক্তির মধ্যে থেকেই ভারতের অধিকার রয়েছে জল সংরক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রিত ভাবে ব্যবহার করার। সেই অধিকার ব্যবহার করেই এবার চন্দ্রভাগার প্রবাহ আটকেছে ভারত।
ভারতের এই সিদ্ধান্তে তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে ইসলামাবাদ। গ্রীষ্মের শুরুতেই জলের উৎস কমে যাওয়ায় এমনিতেই সংকটে রয়েছে পাকিস্তান। তার উপর ভারতের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের কৃষিনির্ভর অঞ্চলে জলসংকট আরও বাড়াতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
পাকিস্তান ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে যে, কোনও সতর্কবার্তা ছাড়াই ভারত অতিরিক্ত জল ছেড়েছিল বিতস্তা নদী দিয়ে, যার ফলে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কিছু অংশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে ভারত পাল্টা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই জল ছাড়া হয়েছে এবং কোনওরকম চুক্তি লঙ্ঘন করা হয়নি।
সূত্রের খবর, এবার চন্দ্রভাগার পর কিশনগঙ্গা (Kishanganga) বাঁধ নিয়েও পরিকল্পনা করছে ভারত। বিতস্তা নদীর উপর তৈরি এই বাঁধ দিয়েও পাকিস্তানমুখী জল নিয়ন্ত্রণে আনার ছক কষা হচ্ছে। যদিও কোনও সামরিক সংঘর্ষ নয়, এই ধরনের কৌশলগত চাপে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করাই আপাতত লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় ফের একবার প্রমাণ হল, ভারত শুধু সীমান্তে নয়, কূটনৈতিক এবং জল কৌশলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাল্টা চাল দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
