রাজ্যের খবর
পিএইচডি কোর্সে মেলেনি সুপারভাইজার, বিপাকে গবেষকদের একাংশ
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সমস্যার সম্মুখীন গবেষকদের একাংশ। পিএইচডি-র কোর্সে ভর্তি হওয়ার পর প্রায় ৬ বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও এখনও মেলেনি সুপারভাইজার। যার জেরে রেজিষ্ট্রেশন হয়নি। এখন কিভাবে নির্দিষ্ট সময়ে কোর্স সম্পন্ন হবে তা নিয়ে চিন্তিত ঐ গবেষকরা।
ইতিমধ্যে একজন গবেষক এই সমস্যার সমাধানের জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নের মুখে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। উপযুক্ত ফি দিয়ে ভর্তি হওয়ার পরেও কেন এমন অব্যবস্থা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গবেষকরা।
ইটাহার থানার সুরুন (১) গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ডামডোলিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মুস্তাক আলম। ২০১৮ সালে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিভাগে পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি জানান, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সেশানে তিনি কোনো সুপারভাইজার পাননি।
আরও পড়ুন – মেলেনি পাকা সেতু, বঞ্চনার অন্ধকারে গ্রামের মানুষ
অথচ নিয়ম অনুযায়ী সংস্কৃত বিভাগের পক্ষ থেকেই সুপারভাইজার দেওয়ার কথা। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি। তিনি একাধিকবার সুপারভাইজারের জন্য উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং ডিনের কাছে আবেদন জানিয়েও কোন সদুত্তর পাননি। অবশেষে বাধ্য হয়ে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি কোলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইতিমধ্যেই ২ বার শুনানি হয়েছে। তিনি চান অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান হোক।
একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন মালদহের বাসিন্দা আলো রায় বাড়ুই নামের অপর এক গবেষক। তিনি বলেন, ২০২০-২১ সেশানে তিনি পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হয়েছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো সুপারভাইজার পাননি। কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও সুপারভাইজার বরাদ্দ হয়নি তার জন্য। এই পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন অালো দেবী। তার অভিযোগ কিছুদিন আগে তার স্টাইপেন্ডও বন্ধ করার চক্রান্ত হয়েছিল। পিএইচডি-র ক্ষেত্রে অবিলম্বে সুপারভাইজার সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এবিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিস্কৃত অশিক্ষক কর্মী তথা সারা বাংলা তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু সমিতির জেলা সভাপতি তপন নাগ। তিনি এর নেপথ্যে বর্তমান উপাচার্য দীপক রায়ের নেতৃত্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন।
এবিষয়ে আমরা কথা বলেছিলাম রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডঃ দুর্লভ সরকারের সাথে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসি’র গাইডলাইন মানতে হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যলয়ের নিজস্ব পিএইচডি গাইডলাইন আছে। পিএইচডি চালানোর ক্ষেত্রে দুটো গুরুত্বপূর্ণ কমিটি রয়েছে। একটি হল ডিপার্টমেন্টাল পিএইচডি কমিটি অপরটি হল সর্বোচ্চ কমিটি বা বিআরএস। পিএইচডি করার ক্ষেত্রে তারাই যাবতীয় বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
এমনিতেই রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের প্রচুর অভাব রয়েছে। শিক্ষক অপ্রতুলতা এর অন্যতম কারণ। পাশাপাশি পিএইচডি’র প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তারপরেও পিএইচডি সফলভাবেই চলছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। যারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পদক্ষেপ নেবে।
আরও পড়ুন – মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে উদ্ধার মোবাইল ফোন! তারপর যা ঘটলো
