রায়গঞ্জ
অন্তর্বর্তী পদ্ধতিতে চাষ করে বিরাট সাফল্য, মুখে হাসি কৃষকের
নিউজ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী পদ্ধতিতে ফসল চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন রায়গঞ্জের এক কৃষক। রায়গঞ্জের বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের ভট্টদিঘী গ্রামে একই জমিতে সরিষা ও ভুট্টা চাষ করেছেন কৃষক প্রদীপ শীল। এর জেরে দুই ধরনের ফসলই একদিকে যেমন পোকার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে তেমনি অন্যদিকে বাড়তি লাভের আশা করছেন তিনি। উত্তর দিনাজপুর জেলা কৃষি দফতরের অভিভাবকত্বে কৃষি ক্ষেত্রে এই অভিনব প্রয়াস ঘিরে উৎসাহিত প্রান্তিক চাষী৷ সকলকেই এমন চাষে উৎসাহ প্রদান করছে জেলা কৃষি দফতর।
অন্তর্বর্তী ফসল কিংবা সাথী ফসল চাষ হল একই জমিতে একাধিক ফসল একসঙ্গে চাষ করার একটি লভজনক পদ্ধতি। যেখানে একটি প্রধান ফসলের সঙ্গে অন্য একটি বা একাধিক ফসল চাষ করা হয়। যা মূল ফসলের ক্ষতি না করে বরং উপকার করে।
এবারে এই অন্তর্বর্তী পদ্ধতিতে ফসল চাষ করে নজর কাড়লেন রায়গঞ্জের এক কৃষক। শুধু নজর কাড়াই নয়। সেই সঙ্গে বিপুল সাফল্য পেলেন প্রদীপ শীল নামের ঐ কৃষক। রায়গঞ্জ ব্লকের বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভট্টদিঘী গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ বাবু আগাগোড়াই কৃষিজিবী। প্রতিবছরই শীতের মরশুমে ভুট্টার চাষ করেন তিনি।
এবারে তিনি কিছুটা চাষের পদ্ধতিতে বদল আনেন। জেলা কৃষি দফতরের অভিভাবকত্বে তিনি অন্তর্বর্তী পদ্ধতিতে ফসল ফলানোর সিদ্ধান্ত নেন। গত ডিসেম্বরের শুরুতে ১ বিঘা জমিতে তিনি প্রথমে সরিষা রোপন করেন তার কদিন পর এসএসবি যন্ত্রাংশের সাহায্যে রোপন করেন ভুট্টা। এরপর ধীরে ধীরে ফলন বাড়তে শুরু করে। ৩ মাস পর এখন একই জমিতে দু’রকম ফলনের মান দেখে মুখে হাসি ফুটেছে প্রদীপ বাবুর।
আরও পড়ুন-ভগ্নপ্রায় PWD বাংলোর জায়গায় গড়ে উঠবে দমকল কেন্দ্র? জল্পনা তুঙ্গে!
একনজরে দেখে নেব অন্তর্বর্তী ফসল বা সাথী ফসলে চাষের সুবিধাঃ
√ জমির ব্যবহার বৃদ্ধি করে, যেখানে মূল ফসলের ফাঁকা স্থানে অন্য ফসল চাষ করা যায়।
√ ফসল প্রতিযোগী না হয়ে বরং একে অপরের জন্য সহায়ক হয়, ফলে উৎপাদন বাড়ে।
√ রোগ ও পোকা থেকে রক্ষা করে এবং মাটিকে উর্বর করে।
√ আয়ের পথ তৈরি করে, কারণ মূল ফসলের পাশাপাশি অন্য ফসল থেকেও আয় করা যায়।
√ মাটি ঢেকে রাখে এবং ক্ষয় কমিয়ে দেয়।
আমরা কথা বলেছিলাম কৃষক প্রদীপ শীলের সাথে। তিনি বলেন, কৃষি অাধিকারিকের পরামর্শ মেনে তিনি এই পদ্ধতিতে চাষ করেছেন। সরিষার সাথে ভুট্টা চাষ করার কারণে তার ফসল পোকার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এক বিঘা জমিতে অন্তর্বর্তী পদ্ধতিতে ফলানো সরিষার ফলন প্রায় ২ কুইন্টাল মত হবে। এছাড়াও ভুট্টা হবে ১৮ থেকে ২০ কুইন্টাল। একই জমিতে দুই ধরনের ফসল চাষ করায় বাড়তি লাভের মুখ দেখবেন। সকল কৃষকদের এই পদ্ধতিতে চাষ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উত্তর দিনাজপুর জেলা কৃষি দপ্তরের সহকারি অধিকর্তা শ্রীকান্ত সিনহা বলেন, প্রতিবছর উত্তর দিনাজপুর জেলায় পৃথকভাবে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়। ৫০০০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয় সরিষা। চাষিরা যদি এই দুই ফসল কে একই জমিতে একই সাথে চাষ করেন। তাহলে ফসল হবে সোনাই সোহাগা।
আরও পড়ুন-Herbal Gulal : সুরক্ষা ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে তৈরী হচ্ছে ভেষজ আবীর
