জেলার খবর
Herbal Gulal : সুরক্ষা ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে তৈরী হচ্ছে ভেষজ আবীর
দু’দিন বাদেই আসছে দোল। লাল, নীল, সবুজ হলুদ নানান রঙের উৎসবে মাতবেন আট থেকে আশি। তবে এই দোল উৎসবে বাজার চলতি আবীর ঘিরে মানুষজন সতর্ক। কেননা বর্তমানে অধিক মুনাফা লাভের আশায় ভুড়ি ভুড়ি কেমিক্যালের ব্যবহার হচ্ছে বাজার চলতি আবীরে। যার দ্বারা ক্ষতি হচ্ছে শরীরে। সে কথা মাথায় রেখে এবছরেও রায়গঞ্জে ভেষজ আবীর তৈরী করছে বিশ্ববাংলা প্রতিবন্ধী সমিতি। চলুন এক নজরে দেখে নিই তার প্রস্তুতি।
“বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা
কারা যে ডাকিল পিছে
বসন্ত এসে গেছে….”
আর মাত্র দু’দিন বাদেই বাঙালির অনন্য উৎসব, দোল উৎসব। বসন্তের আবহে মেতে উঠবেন মানুষ। নানান রঙের আবীরে রঙিন হবে চারিদিক। তাই এখন থেকে বিভিন্ন জায়গায় চলছে প্রস্তুতি। বিগত বছর গুলির মত এবারেও আসন্ন দোল উৎসব উপলক্ষ্যে অভিনব উদ্যোগ নিল বিশ্ববাংলা প্রতিবন্ধী সমিতির উত্তর দিনাজপুর জেলা শাখা। প্রতিবছরই বিশ্ববাংলা প্রতিবন্ধী সমিতির পক্ষ থেকে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়। বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশু-কিশোর কিংবা তরুণ-তরুণীরাও বাকীদের মত মেতে ওঠেন। যেহেতু বর্তমানে বাজার চলতি আবীরে কেমিক্যালের উপস্থিতি বিশেষ লক্ষ্য করা যায়। সেই দিকে তাকিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে এবছরেও ভেষজ আবীর তৈরী করছেন তারা। নিজেরা ব্যবহারের পাশাপাশি বাজারেও চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর সেই অনুসারেই চলছে কাজ। রাত দিন এক করেই তৈরী হচ্ছে ভেষজ আবীর। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে আবীরের বায়না আসছে। ফলে মুখে হাসি প্রত্যেকের।
আরও পড়ুন – সাইবার প্রতারণার ফাঁদ: চাকরির টোপ দিয়ে মায়ানমারে বন্দি ২৮৩ ভারতীয়, অবশেষে মুক্তি
বিশ্ববাংলা প্রতিবন্ধী সমিতির প্রতিনিধি তথা স্পেশাল এডুকেটর কুহেলি দে বলেন, গত ১ মাস ধরে চলছে আবীরের কাজ। এই আবীর তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে গোলাপ, গাঁদার পাপড়ি, বীট, ২ ধরনের গাজর, পালং শাক। যার দ্বারা বিভিন্ন ধরনের রং এবং গন্ধ যুক্ত আবীর তৈরী হচ্ছে। প্রায় ৩০ জন আবীর তৈরী কাজ করছেন। বর্তমানে আবীর খেলার পর বিভিন্ন সময়ে ত্বকের সমস্যা দেখা দিচ্ছে মানুষদের। সেকারনে এই ভেষজ আবীর তৈরীর চিন্তা ভাবনা সামনে আসে৷ বলেন গত বছরগুলিতে তেমন উপার্জন না হলেও এবারে বিভিন্ন জায়গা থেকে বায়না আসছে আবীরের।
বিশ্ববাংলা প্রতিবন্ধী সমিতির অধীনে এখানে আবীর তৈরীর কাজ করে চলেছেন দৃষ্টিহীন মাম্পি বর্মন। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও মনের জোড় নিয়ে রোজ বাড়ি থেকে এসে বেশ কয়েক ঘন্টা কাজ করেন ছোট চাপদুয়ারের বাসিন্দা এই মহিলা। তিনি জানান, সুরক্ষিত ভাবে ভেষজ আবীর তৈরী করা হয়। এতে একদিকে যেমন শরীরের উপকার হবে অন্যদিকে আবীর বাজারজাত করে লাভও হবে। সকলকে তাদের সাথে দোল উৎসবে মেতে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন মাম্পি দেবী।
বিশ্ববাংলা প্রতিবন্ধী সমিতির জেলা সম্পাদক গৌর সরকার বলেন, বিশেষভাবে সক্ষম ভাইবোনদের নিয়ে এই আবীর তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিন বছর ধরে তারা এই কর্মকান্ডে সামিল হয়েছেন। মূলতঃ সুরক্ষা ও স্বনির্ভরতার জন্যই তাদের এই পরিকল্পনা। ভেষজ আবীর গায়ে পড়লে একদিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে অন্যদিকে নিজেরা এই আবীর বাজারজাত করে লাভবান হবেন।
