ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রোষে বিপর্যস্ত পাকিস্তান। টানা বর্ষণের ফলে দেশজুড়ে হড়পা বান ও ভূমিধস এক ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে। পাকিস্তানের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ (NDMA) জানিয়েছে, জুন মাস থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৫৭ জন। এর মধ্যে রয়েছেন ১৭১ জন শিশু, ৯৪ জন মহিলা এবং ৩৯২ জন পুরুষ। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ, নিখোঁজ রয়েছেন বহুজন।
প্রশাসনের দাবি, এ বছর গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা একেবারেই নজিরবিহীন। NDMA–র মুখপাত্র তৈয়ব শাহ (Tayyab Shah) জানিয়েছেন, আগামী ২২ আগস্টও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে এবং সেপ্টেম্বর মাসে আরও একাধিক দফায় বৃষ্টির পূর্বাভাস মিলেছে।
সবচেয়ে বিপর্যস্ত খাইবার পাখতুনখোয়া (Khyber Pakhtunkhwa) প্রদেশ। এখানেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩৯৪ জনের, যার মধ্যে বহু শিশু ও মহিলা রয়েছেন। শুধু বুনের (Buner) জেলায় নিখোঁজের সংখ্যা ৮৪। এরপরই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঞ্জাব (Punjab), যেখানে মৃতের সংখ্যা ১৬৪। সিন্ধ (Sindh) অঞ্চলে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের, আর পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও গিলগিট-বালটিস্থানেও প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩২ জন।
প্রবল হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে অবকাঠামোও। ধ্বংস হয়েছে ৬১টি সরকারি স্কুল, ক্ষতিগ্রস্ত ৪১৪টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। খাইবার পাখতুনখোয়ায় উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে। অস্থায়ী তাঁবু, খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে দুর্গত এলাকায়।
মাত্র তিন মাসের বর্ষায় দেশজুড়ে এই ভয়াবহ বিপর্যয় সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে শাহবাজ শরিফ (Shahbaz Sharif) সরকার। সাধারণ মানুষকেই এখন দুর্যোগের সবচেয়ে বড় বোঝা বইতে হচ্ছে।