আত্মহত্যা
স্ত্রীর সঙ্গে বাবার সম্পর্কের অভিযোগে আত্মঘাতী প্রাক্তন ডিজি-র ছেলে, ভিডিও ঘিরে তোলপাড়
ডিজিটাল ডেস্কঃ পাঞ্জাব পুলিশের (Punjab Police) প্রাক্তন ডিজি (DGP) মহম্মদ মুস্তাফা (Mohd. Mustafa) এবং তাঁর স্ত্রী, কংগ্রেস নেত্রী ও প্রাক্তন মন্ত্রী রাজিয়া সুলতানা (Razia Sultana)-র বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে (FIR) মামলার দায়ের ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগ, তাঁদের ছেলে আকিল আখতার (Aqil Akhtar), বয়স ৩৩, বাবার সঙ্গে স্ত্রীর ‘অবৈধ সম্পর্ক’ (illicit relationship) মেনে নিতে না পেরে আত্মঘাতী (suicide) হন। মৃত্যুর আগে আকিল একটি ভিডিওতে বিস্ফোরক দাবি করেন, “আমার স্ত্রী এবং আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্কে জড়িত। বিয়ের রাতেও আমার স্ত্রী আমাকে স্পর্শ করতে দেয়নি। আসলে সে আমাকে নয়, বিয়ে করেছে আমার বাবাকে।”
ঘটনাটি ঘটে পঞ্চকুল্লার (Panchkula) বাসভবনে। গত বৃহস্পতিবার আকিলকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আকিলের নানা শারীরিক সমস্যা ছিল এবং অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়।
কিন্তু পরে আকিলের একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই মৃত্যু নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট আকিল একটি ১৬ মিনিটের ভিডিও রেকর্ড করেন, যেখানে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ষড়যন্ত্র’ (conspiracy) এবং মানসিক নির্যাতনের (mental torture) অভিযোগ আনেন। এমনকি, মন্ত্রী মায়ের পাশাপাশি বোনের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দাবি করেন তিনি।
পরে অবশ্য আরেকটি ভিডিওয় আকিল দাবি করেন, তিনি স্কিৎজোফ্রেনিয়া (schizophrenia) রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, ওই ভিডিওটি আদৌ আকিলের ইচ্ছায় রেকর্ড করা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে প্রতিবেশী শামসুদ্দিন চৌধুরি (Shamsuddin Chowdhury) নামে একজনের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পাঞ্জাব পুলিশ এফআইআর (FIR) দায়ের করে। তিনি বলেন, আকিল তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং পরিবার পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ‘পাগল’ (insane) প্রমাণের চেষ্টা করছিল।
পাঞ্জাব পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (Deputy Commissioner) সৃষ্টি গুপ্তা (Srishti Gupta) জানান, “প্রথমে এই মৃত্যু স্বাভাবিক মনে হলেও পরে ভিডিও ও অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
সিট (Special Investigation Team) গঠন করে ভিডিও ও অন্যান্য তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।


