ভাইরাল খবর
দুর্গাপুর মেডিকেল ছাত্রী কাণ্ডে নয়া মোড়, সহপাঠীর বিরুদ্ধে ‘ধর্ষণ’-এর ইঙ্গিত পুলিশের
ডিজিটাল ডেস্কঃ দুর্গাপুরের (Durgapur) একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর ‘গণধর্ষণ’ (gang rape) কাণ্ডে এবার উঠে এলো নতুন তথ্য। ফরেন্সিক (forensic) পরীক্ষায় নির্যাতিতার পোশাকে (clothing) সহপাঠীর যৌনরস (semen) মিলেছে বলে দাবি করল পুলিশ। এই তথ্যেই মামলাটি অন্য মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
তবে এখনও পর্যন্ত সব অভিযুক্তের পোশাকের ফরেন্সিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনাটি ‘গণধর্ষণ’ নয়, বরং এক সহপাঠী ছাত্র নির্যাতিতাকে প্রলোভন দেখিয়ে হস্টেল (hostel) থেকে কলেজের পিছনের জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল এবং সেখানে ‘ধর্ষণ’ (rape) করে। পরে বাকিরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে হস্তক্ষেপ করে।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত সহপাঠী মেয়েটিকে জঙ্গলে রেখে পালিয়ে যায়। বাকি চারজন মেয়েটিকে মারধর (assault), মোবাইল ছিনতাই (phone snatching), এবং টাকা চাওয়ার মতো অপরাধে যুক্ত ছিল। তারা মেয়েটিকে অনেকক্ষণ আটকে রেখেছিল এই আশায় যে মূল অভিযুক্ত ফিরে আসবে। কিন্তু সে না আসায়, অবশেষে তারা মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়।
পরবর্তীতে, ওই সহপাঠী আবার জঙ্গলে ফিরে এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হস্টেলে ফিরিয়ে আনে। পুলিশের মতে, কেবলমাত্র সেই সহপাঠীই ধর্ষণের সঙ্গে যুক্ত, অন্য চারজন নয়।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের দাবি, তারা নির্দোষ। তারা নিজেরাই পুলিশকে অনুরোধ করেছে ডিএনএ (DNA test), ফরেন্সিক পরীক্ষা করতে। পুলিশি জেরায় ওই পাঁচ অভিযুক্ত আরও দাবি করেছে, কলেজ ক্যাম্পাসে সন্ধ্যার পর অনেক ছাত্রছাত্রীই নিয়ম করে পিছনের জঙ্গলে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক (physical intimacy) স্থাপন করে। এবং সেখান থেকেই তারা কখনও কখনও চুরি, ছিনতাই বা ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায় করে থাকে।
এই ঘটনায় ধৃত ছয়জনকেই আগামী ২২ অক্টোবর আদালতে পেশ করা হবে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যু ঘিরে কম জলঘোলা হয়নি। বিজেপি (BJP) প্রথমে ৬ দিনের ধরনা কর্মসূচি ঘোষণা করলেও, তাতে তেমন সাড়া মেলেনি। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) প্রথম দিন সিটি সেন্টারে ধরনায় বসলেও পরে তিনি বা দলের অন্য শীর্ষ নেতারা আর সেই মঞ্চে পা রাখেননি। সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee) একদিনের মিছিল করলেও ঘটনার প্রকৃত রূপ স্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় আন্দোলন হারিয়েছে গতি।


