রাজগঞ্জে ফেসবুক রিল বিতর্কে মৃত্যু, স্ত্রীর ‘না ফেরার’ বার্তাই কাল
Connect with us

সোশ্যাল মিডিয়া

রাজগঞ্জে ফেসবুক রিল বিতর্কে মৃত্যু, স্ত্রীর ‘না ফেরার’ বার্তাই কাল

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: ফেসবুক রিল বানানোর নেশা শেষ পর্যন্ত এক দাম্পত্য জীবনের করুণ পরিণতি ডেকে আনল। ৭ বছরের সন্তানকে ফেলে স্ত্রী ভিনরাজ্যে চলে যাওয়ার পরে স্ত্রী আর ফিরবেন না— এই খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন স্বামী। শেষমেশ আত্মহত্যা করেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে রাজগঞ্জ ব্লকের মাঝিয়ালী গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় ভিটা সরকার পাড়া এলাকায়। মৃত যুবকের নাম বিপ্লব সরকার (Biplab Sarkar), বয়স ৩৬।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিপ্লব ও প্রিয়াঙ্কা রায়ের (Priyanka Roy) বিয়ে হয়েছিল প্রায় আট বছর আগে। প্রিয়াঙ্কা হলদিবাড়ির বাসিন্দা। তাঁদের সাত বছরের একটি সন্তান রয়েছে। বিপ্লব পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন এবং মূলত কেরালায় থাকতেন কাজের সূত্রে।

পরিবারের দাবি, গত এক বছর ধরে প্রিয়াঙ্কা ফেসবুকে নিয়মিত রিল (Reel) বানাতেন এবং সেই কারণে প্রায়শই বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতেন। এই নিয়েই পরিবারে কলহ চরমে ওঠে। সম্প্রতি সন্তানকে রেখে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের বাবার বাড়ি হলদিবাড়ি চলে যান প্রিয়াঙ্কা। গত সপ্তাহে বাজারে যাওয়ার নাম করে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি।

আরও পড়ুনঃ মার্কিন হস্তক্ষেপেই থামল পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা, দাবি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

Advertisement
ads

পরিবার সূত্রে খবর, পরে প্রিয়াঙ্কা ফোন করে জানিয়ে দেন যে তিনি বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন এবং আর ফিরবেন না। এই খবর পাওয়ার পরেই কেরালা থেকে বাড়ি ফিরে আসেন বিপ্লব। স্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে মানসিকভাবে চূড়ান্ত ভেঙে পড়েন তিনি। রবিবার রাতে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, স্ত্রীর ফিরে না আসার খবরে গভীর অবসাদে ভুগছিলেন বিপ্লব এবং সেই কারণেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। বিপ্লবের দাদা নারায়ণ সরকার (Narayan Sarkar) জানিয়েছেন, “স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা (Priyanka) ফোনে জানায় সে আর ফিরবে না। এই কথা শুনেই ভাই একেবারে ভেঙে পড়ে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম বোঝাতে, কিন্তু শেষরক্ষা হল না।”

এই ঘটনায় নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তির কারণে দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সন্তান এখন দাদার হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement