ভাইরাল খবর
সোশ্যাল মিডিয়ায় জন্ম নিল নতুন ‘রাজনৈতিক দল’! ককরোচ জনতা পার্টিতে নাম লেখালেন দুই সাংসদও
ডিজিটাল ডেস্কঃ নাম শুনলে অনেকেরই হাসি পেতে পারে, তবে মাত্র কয়েক দিনেই সমাজমাধ্যমে (Social Media) তুমুল ঝড় তুলেছে একটি নতুন প্রতীকী রাজনৈতিক মঞ্চ (Political Platform)। দলের নাম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (Cockroach Janta Party – CJP)। নিজেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই ভার্চুয়াল দলে ইতিমধ্যেই নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের দুই হাই-প্রোফাইল সাংসদ (Members of Parliament) মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদের।
আমেরিকার বস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র তথা আম আদমি পার্টির প্রাক্তন ডিজিটাল প্রচারক অভিজিৎ ডিপকে এই অভিনব মঞ্চের সূচনা করেছেন। মাত্র ৭২ ঘণ্টায় এর সদস্য সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ঠাট্টা করে এই দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে সিজেপি তাঁকে ‘গণতন্ত্রের লড়াকু যোদ্ধা’ হিসেবে স্বাগত জানায়। অন্যদিকে, বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ দলে যোগদানের যোগ্যতা জানতে চাইলে সিজেপি রসিকতা করে লেখে, “১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ (World Cup) জেতাই যথেষ্ট।”
হঠাৎ এমন অদ্ভুত নামের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি (Chief Justice of India) সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের (Controversy) সূত্রপাত। এক শুনানির সময় তিনি কর্মহীন যুবকদের একাংশকে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও পরে প্রধান বিচারপতি জানান যে তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কিন্তু তার আগেই এই মন্তব্যের অভিনব প্রতিবাদ (Protest) হিসেবে জন্ম নেয় সিজেপি।
দলের সদস্য হওয়ার শর্ত হিসেবে ব্যঙ্গাত্মকভাবে (Satirical) বলা হয়েছে— প্রার্থীকে বেকার, অলস হতে হবে এবং অনলাইনে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি থাকতে হবে। তবে শুধু মিম বা ঠাট্টা নয়, রাজনৈতিক বার্তাও দিচ্ছে এই দল। তাদের ৫ দফার ইস্তাহারে (Manifesto) বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতিরা অবসরের পর রাজ্যসভার সাংসদ হতে পারবেন না, দলবদলু (Defector) নেতারা ২০ বছর ভোটে লড়তে পারবেন না এবং নিট (NEET) ও সিবিএসই পরীক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এই মঞ্চ ভবিষ্যতে অফিশিয়াল দল হবে নাকি শুধুই ডিজিটাল বিপ্লব হয়ে থাকবে, তা সময়ই বলবে।


