মার্কিন হস্তক্ষেপেই থামল পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা, দাবি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
Connect with us

হামলা

মার্কিন হস্তক্ষেপেই থামল পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা, দাবি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ থামাতে মধ্যস্থতার দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। হোয়াইট হাউসে সোমবার এক বক্তব্যে তিনি জানান, তাঁর প্রশাসনের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপেই ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। শুধু তাই নয়, সংঘর্ষ থামাতে দুই দেশকেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—যুদ্ধ বন্ধ না হলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে।

ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, “ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ আটকানো সম্ভব হয়েছে। দু’দেশের কাছেই প্রচুর পরিমাণে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল, যেখানে মনে হচ্ছিল কেউই থামতে রাজি নয়।” এই পরিস্থিতিতে তাঁর প্রশাসন দুই পক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেয়।

ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা বলেছিলাম, যুদ্ধ বন্ধ করুন। আমরা আপনাদের সঙ্গে অনেক বাণিজ্য করতে পারি, কিন্তু যুদ্ধ চললে কোনও বাণিজ্য নয়।” তাঁর দাবি, এই চাপই যুদ্ধ থামানোর অন্যতম প্রধান কারণ। তাঁর কথায়, “আমি যেভাবে বাণিজ্যিক বিষয়কে হাতিয়ার করি, তা আর কেউ করতে পারে না।”

আরও পড়ুনঃ ‘পাকিস্তান বাঁচতে চাইলে সন্ত্রাস ছাড়তে হবে’, সরাসরি হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর

Advertisement
ads

তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষ বন্ধ হওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে ব্যবসার স্বার্থ। তাঁর মতে, ভারত-পাকিস্তান বুঝেছে এই সংঘাত চললে তাদের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসবে। সেই কারণেই তাঁরা আলোচনায় রাজি হয়েছেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণাটি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন ট্রাম্প নিজেই। গত শনিবার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি ঘোষণা করেন, দুই দেশ সংঘর্ষ বন্ধে সম্মত হয়েছে। তাঁর পরেই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিবৃতি আসে, তারপর ভারত সরকারের তরফেও বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী (Vikram Misri) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স (JD Vance) ও মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio)-র কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও যুদ্ধ থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

রবিবার ফের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ভারত ও পাকিস্তান বুঝেছে এখন আগ্রাসন থামানোর সময়। নয়তো লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল।” ট্রাম্পের ইঙ্গিত, যুদ্ধের ছায়া কাটিয়ে দুই দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমেরিকার। ইতিমধ্যেই ভারতের সঙ্গে সেই বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান। পাকিস্তানের সঙ্গেও আলোচনা শুরু হবে খুব শিগগিরই।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) জাতির উদ্দেশে ভাষণের ঠিক আধ ঘণ্টা আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসে, যার তাৎপর্য অত্যন্ত কূটনৈতিক। একদিকে যুদ্ধবিরতি, অন্যদিকে মার্কিন হস্তক্ষেপ—দুই মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন মোড় নিয়েছে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement