দেশ
বঙ্গ নির্বাচনের ফলাফলের পর বিতর্কিত মন্তব্য। চিরতরে সাসপেন্ড করা হল কঙ্গনা রানাউত এর টুইটার অ্যাকাউন্ট
নিউজ ডেস্ক , ৪ মে : চিরকালই বিতর্কিত মন্তব্য করে শিরোনামে থেকেছেন বি-টাউনের কন্ট্রোভার্সি কুইন কঙ্গনা রানাওয়াত। এবারেও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এবারে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে অভিনেত্রীকে খোয়াতে হল নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট।
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে আপত্তিজনক মন্তব্য় করেন কঙ্গনা বলে অভিযোগ। এমনকী, ভোট-পরবর্তী হিংসার জন্যও মমতার তীব্র সমালোচনা করেন বলিউড অভিনেত্রী। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখে ট্যুইটারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে একের পর এক বিতর্কিত পোস্ট করেছেন কঙ্গনা রানাউত। ট্যুইটে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশী আর রোহিঙ্গারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি । যা ট্রেন্ড দেখছি, সেখানে হিন্দুরা আর সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নেই । তথ্য অনুযায়ী, বাংলার মুসলিমরা সবচেয়ে গরীব আর বঞ্চিত । ভাল, আর একটা কাশ্মীর হতে চলেছে।”এমনকী একাধিকবার “#বেঙ্গলইজবার্নিং” জাতীয় হ্যাশটাগও ব্যবহার করেছিলেন অভিনেত্রী। কঙ্গনার তথ্য অনুযায়ী গোটা ভারতবর্ষের তুলনায় বাংলার মুসলিমরা সবচেয়ে গরীব আর বঞ্চিত। ভাল, আরেকটা কাশ্মীর তৈরি হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েও তাঁকে বেনজির কটাক্ষ করেন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, “২০১৯-এ লোকসভা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন বাঘিনীর মতই লড়াই করেছেন এই বিধানসভা নির্বাচনে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামতে দেননি। সিএএ, এনআরসিকে আটকেছেন। মোদিকে খেলায় আহ্বান করেছেন। খোলাখুলি শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছেন, তাঁদের ভোটার কার্ড দিয়েছেন। গণতন্ত্র এখানে রসিকতা।
তবু আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্যালুট জানাচ্ছি। কারণ যদি ভিলেন হতেই হয় তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হন। রাবণের মত লড়াই করুন। রাহুল গাঁন্ধির মতো গোগো না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ী হওয়াই উচিত।”এরপর আরামবাগে বিজেপির পার্টি অফিসে আগুন লাগানোর খবরের রিট্যুইট করে কঙ্গনা রানাউত লেখেন, “আগামীদিনে বাংলায় রক্তস্নান হবে। সরকার হেরে যাওয়ার ভয়ে রক্ত পিপাসু হয়ে উঠবে।”বাংলায় বিজেপির বিপর্যয়ের পর লাগাতার টুইটে এসবই লিখতে থাকেন তিনি। অন্যদিকে এতদিন যে কোনও বিষয়েই নিজের মতামত টুইটের আকারে তুলে ধরতেন অভিনেত্রী। তবে তার অধিকাংশই হতো আপত্তিজনক। তার জন্য বিতর্কও হয়েছে বিস্তর। এবার তার পোস্ট করার রাস্তাই পাকাপাকি ভাবে বন্ধ করে দিল টুইটার। এ বিষয়ে টুইটারের মুখপাত্র জানান, কোনো উসকানিমূলক টুইটের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব এ বিষয় আমরা স্পষ্ট জানিয়েছি আগেই। টুইটার ব্যবহারের কোনো শর্তাবলীই মানছিলেন না কঙ্গনা। বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্যই তাঁর টুইটার সাসপেন্ড করা হয়েছে। অন্য কেউও যদি তা করেন, একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর বিরুদ্ধে পালটা প্রতিক্রিয়া দিলেন কঙ্গনা। তিনি স্পষ্টভাবেই জানালেন তাঁর কাছে অন্য প্ল্যাটফর্ম মজুত রয়েছে যেখানে তিনি নিজের মতামতা জাহির করতে পারবেন এবং তাঁকে নির্বাসিত করে টুইটার প্রমাণ করে দিয়েছে তাঁদের নিজেদের অবস্থান।
