উত্তর দিনাজপুর
বিট্টু হত্যাকান্ডে ফরেন্সিকের তল্লাশি, বিস্ফোরক অভিযোগ ধৃতের পরিবারের
নিউজ ডেস্ক: উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদে বিট্টু হত্যাকান্ডে জোড় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। সময় যত গড়াচ্ছে এই হত্যাকান্ড ঘিরে ততই উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন।
√ বিট্টুকে খুন করলো কে?
√ জাহিদূর যদি নিজে খুন না করে থাকে, তাহলে কি অন্য কাউকে দিয়ে খুন করা হয়েছে বিট্টুকে?
√ শনিবার সকালে বিট্টুর দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয় খরের গাঁদা থেকে,তাহলে কি অন্য কোথাও খুন করে তথ্য লোপাটের জন্য বিট্টুর স্ক্রুটিসহ দেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়?
√ বিট্টুকে যদি অন্য কোথাও খুন করা হয়ে থাকে তাহলে বিট্টুর দেহ ও স্ক্রুটি ঘটনাস্থলে আনলো কে বা কারা?
এই সব প্রশ্নই বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে। যার উত্তর খুঁজতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। অতি সক্রিয়তার সাথে ঘটনার মূল পয়েন্টে পৌঁছতে চাইছেন তদন্তকারীরা। তারই অঙ্গ হিসেবে এবারে ঘটনাস্থলে এল ফরেন্সিক দল। বুধবার দিনভর তল্লাশি চালালেন ফরেন্সিক দলের প্রতিনিধিরা।
ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ডঃ চয়ন গুহ’র নেতৃত্বে তিন সদস্যে দল জলপাইগুড়ি থেকে এসে পৌঁছয় হেমতাবাদের ধোঁয়ারই এলাকায়। ঘিরে রাখা দগ্ধ খড়ের গাদায় জলে তল্লাশি। পুলিশ সূত্রের খবর, সেখান থেকে ফরেনসিক দল উদ্ধার করেছে জ্বলে যাওয়া দুটি মোবাইল ফোন, যেগুলি নিহতের বলে মনে করা মনে করা হচ্ছে।
পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে পুড়ে যাওয়া স্কুটির অংশ ও হাড়ের অংশ। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী ঘটনা স্থল থেকে পঞ্চাশ মিটার দূরে স্কুটির রাবারে পাদানি উদ্ধার হয়েছে। যেখানে রক্তের নমুনা রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন-ভগ্নপ্রায় PWD বাংলোর জায়গায় গড়ে উঠবে দমকল কেন্দ্র? জল্পনা তুঙ্গে!
এখানেই উঠছে প্রশ্ন, তাহলে কি বিট্টু কে অন্য জায়গায় হত্যা করার পর সেই স্কুটিতে চাপিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল ঘটনাস্থলে? দেহ থেকে রক্ত গড়িয়ে পা দানিতে লেগে যাওয়ার জন্যই কি সেই পাদানি ৫০ মিটার দূরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল? ঘটনাস্থল থেকে এরপর ধৃত জাহিদুর রহমান ওরফে বাপির বাড়িতে পৌঁছে যায় ফরেন্সিক দল।
ঘটনার দিন যে ঘরে বিট্টু উপস্থিত হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে সেই ঘরের সিল ভেঙ্গে ঢুকে পড়েন ফরেনসিক আধিকারিকরা। সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি বাপির বাড়ির পাশে একটি ডোবা ঘিরেও তৈরি হয় সন্দেহ।
এই ডোবায় উল্লেখযোগ্য কোন নমুনা থাকতে পারে বলে মনে করে ফরেনসিক দল। এরপর ডোবার জল কমানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেখান থেকেও বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করে বেরিয়ে যায় ফরেনসিক দল। উদ্ধার হওয়া সমস্ত নমুনা বিট্টু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যথেষ্ট সহায়ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে পুলিশের উপরে আস্থা প্রকাশ করছেন নিহত বিট্টুর পরিবারের লোকজন। নিহতের দাদা বাবন ক্ষেত্রি বলেন, পুলিশ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশ আরও কিছুটা সময় চেয়েছে। আস্তা রাখতে বলেছে। এই ঘটনায় অন্তত ৪-৫ জন জড়িত রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত জাহিদুর রহমান ওরফে বাপিকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ তুলছে ধৃতের পরিবার। জাহিদুর কে ফাঁসানোর প্রতিবাদে এদিন ভাতসিয়া এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান ধৃতের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের একাংশ।
জাহিদুরের কাকা জার্জিস আলী বলেন, জাহিদুর ওরফে বাপী এই ঘটনার সাথে কোনো ভাবেই জড়িত নয়। জাহিদুরকে পুরোপুরি ফাঁসানো হচ্ছে। জাহিদুরের বাড়ির কাছে প্রমান ফেলে রেখে তাকে জোড়পূর্বক ফাঁসানো হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন জার্জিস।
পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ধৃত জাহিদুর ও আসাদ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনার জল এখন কোন দিকে গড়ায় সেই অপেক্ষায় সকলেই।
আরও পড়ুন-ভূতুড়ে ভোটারের খোঁজ মিলল, খোদ পুরসভার কাউন্সিলরের মেয়ের
