জলপাইগুড়ি
চা শ্রমিকদের বোনাসে উৎসবের খুশি – পুজোর আগেই চাঙা হবে ডুয়ার্সের অর্থনীতি
দিনভর রোদ–জলে (Sun-Rain) খেটে ফেরা চা শ্রমিকদের (Tea Workers) জীবনে উৎসব মানেই বাড়তি আনন্দ। সন্ধে নামলে যখন শ্রমিকরা সরু বাগানপথ (Garden Lane) বেয়ে ঘরে ফেরেন, তখনও বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকে একটাই প্রতীক্ষা—পুজোর (Durga Puja) আগে হাতে আসুক বোনাস (Bonus)।
পুজোর মাসখানেক আগে থেকেই উত্তরবঙ্গের (North Bengal) চা বলয়ে শুরু হয় এই প্রতীক্ষা। কারণ এই বোনাসের টাকা ঘুরিয়ে দেয় গোটা অঞ্চলের অর্থনীতি (Economy)। শ্রমিকরা সেই টাকায় নতুন জামা কাপড় কেনেন, বাজারে ভিড় করেন, হাটে ব্যবসা বাড়ে। শিলিগুড়ি (Siliguri), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), কোচবিহার (Cooch Behar) থেকে হাট ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে আসেন। এক মাস ধরে চলে কেনাবেচা। ফলে কৃষকের ঘরে ওঠে নতুন চাল, শ্রমিকের ঘরে রান্না হয় মাংসের ঝোল।
গত ২২ আগস্ট রাজ্য সরকার কলকাতায় (Kolkata) চা বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে ঘোষণা করে, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বোনাস মিটিয়ে দিতে হবে। গত বছর অনেক বাগানেই হয়নি বোনাস, কোথাও বা মিলেছে অর্ধেক। তাই এ বছর নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন শ্রমিকরা।
ইন্ডিয়ান টি প্লান্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (Indian Tea Planters Association – ITPA) ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক রাম অবতার শর্মা বলেন, “৪৫ বছরের পরম্পরা এ বার ভাঙলেও, রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বোনাস মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে।”
অসংগঠিত ক্ষেত্রেও (Unorganised Sector) ১৫–১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বোনাস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু চা শ্রমিকই নয়, দোকান থেকে শুরু করে বটলিফ ফ্যাক্টরির কর্মীরাও পুজোর আগে হাতে টাকা পাবেন।
ফেডারেশন অব চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, নর্থ বেঙ্গল-এর সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস জানান, “পুজোর বোনাস প্রত্যন্ত এলাকাতেও অর্থনৈতিক স্বস্তি আনে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব কর্মীর হাতে বোনাস পৌঁছে যায়।”
মালবাজার হাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক কমল দত্ত বলেন, “করোনার পর থেকে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি থমকে ছিল। বোনাসের টাকাই চাঙা করবে হাট ব্যবসা।”
নাগরাকাটার (Nagrakata) জিতি বাগানের শ্রমিক দুর্গা মাহালি বলেন, “বোনাসের টাকা যদি একটু আগে হাতে পাই, তা হলে সঠিকভাবে ব্যয় করতে পারব।”
দিন গুনছেন দুর্গার মতো আরও অসংখ্য শ্রমিক। সামনে পুজো। মা আসছেন। আর মাত্র ৩০ দিনের অপেক্ষা।


