বৃহস্পতিবার মেয়ো রোডে টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে এ বিষয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, “বাংলার ইতিহাসকে বিকৃত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বদনাম করা হচ্ছে। টাকা দিয়ে সিনেমা বানানো হচ্ছে বাংলাকে ছোট করার জন্য। মগজে মরুভূমি, তাই এরা ইতিহাস ভুলে গিয়েছে।”
উল্লেখ্য, বিবেক অগ্নিহোত্রীর বিরুদ্ধে এর আগেও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ উঠেছিল। দ্য বেঙ্গল ফাইলস-এর ট্রেলার প্রকাশের পর ইতিমধ্যেই পরিচালককে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন গোপাল মুখোপাধ্যায়ের নাতি শান্তনু মুখোপাধ্যায় (Shantanu Mukhopadhyay)। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে এই ছবি কোনও বিশেষ দলের রাজনৈতিক ফায়দার হাতিয়ার কি না।
এদিন ক্ষুদিরাম বসুকে (Khudiram Bose) নিয়ে তৈরি বলিউড ছবি কেশরী চ্যাপ্টার ২ নিয়েও কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ছবিতে ক্ষুদিরামকে ‘সিং’ বলা হয়েছে। তিনি যখন ফাঁসির মঞ্চে গান গেয়েছিলেন, তখন তোমরা কোথায় ছিলে? তোমাদের পূর্বপুরুষ তো ব্রিটিশদের দালালি করেছিল, মুচলেকা দিয়ে বেঁচেছিল।” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্ষুদিরামের ফাঁসির সমস্ত নথি সংরক্ষণের নির্দেশ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে পুলিশ মিউজিয়ামে।
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। বিরোধীদের এক হাত নিয়ে মমতার তোপ, “একদিকে বিজেপি (BJP), অন্যদিকে তার সহযোগী বাম। সব এক হয়ে গেছে—বাম, রাম, শ্যাম, জগাই-মাধাই। বামপন্থীরা নির্লজ্জভাবে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। নেতাজিকে নিয়েও ভুল প্রচার চালানো হচ্ছে।”
ভাষা সন্ত্রাসের প্রসঙ্গেও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলায় কথা বললেই ভয় দেখানো হচ্ছে। হাবড়ায় একজন প্রাণও হারিয়েছেন। এই ভাষা সন্ত্রাস বরদাস্ত করা হবে না। আপনারা ১ হলে আমরা ১০০। বিনা যুদ্ধে তৃণমূল (TMC) এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না।”