খুন
৩৬ লক্ষ টাকার দাবিতে পণের বলি তরুণী, শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
ডিজিটাল ডেস্কঃ গ্রেটার নয়ডায় (Greater Noida) পণের দাবিতে নৃশংস ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২৮ বছরের তরুণী নিক্কি ভাটি (Nikki Bhati)। অভিযোগ, ৩৬ লক্ষ টাকা না দেওয়ায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে অকথ্য মারধর করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। পথেই মৃত্যু হয় নিক্কির। ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পরিবার। নিক্কির বাবার সাফ দাবি, “যারা আমার মেয়েকে এভাবে খুন করেছে, তাদের গুলি করে মারুক পুলিশ। শাস্তি হোক ওই বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে।”
নিক্কির দিদি কাঞ্চন ভাটি (Kanchan Bhati) একই পরিবারের বৌ। তিনি জানিয়েছেন, দু’জনকেই বিয়ের পর থেকে টাকার জন্য নির্যাতন করা হত। শ্বশুরবাড়ির লোকজন বারবার ৩৬ লক্ষ টাকার দাবি করত। প্রতিবারই পরিবারের তরফে কিছু না কিছু দেওয়া হলেও দাবি বাড়তেই থাকে। ২০১৬ সালে নিক্কির বিয়ের সময় স্করপিও গাড়ি (Scorpio Car) সহ একাধিক দামী জিনিসপত্র দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হয়নি অত্যাচারীরা।
নিক্কির ভাই রোহিত ভাটি (Rohit Bhati) অভিযোগ করেছেন, স্বামী বিপিন ভাটি ও তাঁর ভাইদের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সেই কারণেও বোনদের ওপর অমানুষিক চাপ সৃষ্টি হত। রোহিতের দাবি, “বিয়ের ছ’মাস যেতেই মারধর শুরু হয়। টাকার চাহিদা একেবারে লাগামছাড়া হয়ে পড়ে।”
ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, বিপিন নিক্কিকে চুল ধরে টানছে, তাঁর গায়ে রক্তের দাগ। আরও একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনে দগ্ধ অবস্থায় সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছেন নিক্কি। দগ্ধ শরীর নিয়ে মাটিতে বসে আছেন, আর কেউ একজন তাঁর গায়ে জল ঢালছে।
গ্রেটার নয়ডার অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সুধীর কুমার (Sudhir Kumar) জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতাল থেকে খবর পাওয়া যায়। গুরুতর অবস্থায় নিক্কিকে সাফদরজং হাসপাতালে রেফার করা হলেও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। মৃতার দিদির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। স্বামী বিপিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওরকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।


