ডিজিটাল ডেস্কঃ সমাজ একদিকে এগিয়ে চলেছে, তবে তার সাথে সমান্তরালে চলছে সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্রও। বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ এবং অবসাদ সৃষ্টি হচ্ছে, যা পরিণত হচ্ছে ভয়াবহ সিদ্ধান্তের দিকে। একাধিক কারণে আজকাল শিশু-কিশোররা নানা দুশ্চিন্তায় ডুবে যায় এবং সেই অবসাদ থেকেই নেয় আত্মহত্যার মত মারাত্মক সিদ্ধান্ত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের শিশু-কিশোরদের মধ্যে আত্মহত্যা এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের সবার জন্য চিন্তার বিষয়।
সোমবার, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহরে এমনই একটি ঘটনা ঘটল, যা স্থানীয় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। রায়গঞ্জের দেবীনগর এলাকায় এক কিশোর আত্মঘাতী হয়েছে। ঘটনার সময়, কিশোরটির পরিবার বাড়িতে উপস্থিত ছিল না, এবং সেই সুযোগে সে নিজেকে প্রাণবন্ত থেকে অকালেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। ওই কিশোরটি স্থানীয় একটি নামকরা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশোনা করত।
আরও পড়ুনঃ সিপিএম বিরোধিতা করছে, তবু মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষকদের পাশে,’ কুণাল ঘোষের মন্তব্য
জানা গেছে, ওই কিশোরের মা বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন সকালে। বাড়িতে তখন কেউ ছিল না। একা পেয়ে ওই কিশোর বিছানার ওপর কাঠের টুল রেখে সিলিংয়ের কাঠের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়। কিছুক্ষণ পরে, তার মা বাড়ি ফিরে এসে এই ঘটনা দেখে হতবাক হয়ে যান। সন্তানহারা সেই মা ভেঙে পড়েন এবং আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ওই কিশোরকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে, দুঃখজনকভাবে, তার আগেই ছেলেটি প্রাণ ত্যাগ করেছে।
সূত্র অনুযায়ী, ওই কিশোরের বিদ্যালয়ে ২৫ তারিখে খাতা দেখানোর দিন ছিল, কিন্তু সে ওই দিন বিদ্যালয়ে যায়নি। সোমবার ছিল অভিভাবকদের খাতা দেখানোর দিন, এবং তার আগেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা। আরও জানা গেছে, পরীক্ষায় কম নম্বর পাবে বলে কিশোরটি মানসিক অবসাদে ভুগছিল, এবং তার ফলস্বরূপ এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনার পর, স্কুলের প্রধান শিক্ষক কালীচরণ সাহা হাসপাতালে ছুটে আসেন। তিনি জানান, সকালে স্কুলে গিয়ে যখন তিনি এই দুঃখজনক খবর শুনলেন, তখন তিনি একেবারে অবাক হয়ে যান। কালীচরণ বাবু বলেন, “ওই কিশোর খুব শান্ত প্রকৃতির ছেলে ছিল এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিল। তার আত্মহত্যার ঘটনার কথা বিশ্বাস করতে পারছি না।” তবে, তিনি মানছেন না যে খাতা দেখানো কিংবা পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ার ভয়ে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেবে। মৃত কিশোরের বাবার সহকর্মী প্রণব বসাকও হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “এমন ঘটনা শুনে আমি খুবই দুঃখিত। সহকর্মীর ছেলের আত্মহত্যার ঘটনা মেনে নেওয়া কঠিন।” এ বিষয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সব্যসাচী মুখার্জি বলেন, “এই বয়সে একটি ছেলে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে, এটি মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এমন ঘটনা এড়ানোর জন্য অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন থাকতে হবে।”