দেশের খবর
ভারতীয় সেনায় যুক্ত হচ্ছে ধ্রুবাস্ত্র মিসাইল! কালামের ভাবনায় তৈরি শক্তিশালী অস্ত্র
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) শক্তিবৃদ্ধিতে যোগ হচ্ছে এক নতুন পালক। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও (DRDO) তৈরি করেছে অত্যাধুনিক ‘ধ্রুবাস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্র। হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই মিসাইলটি আসলে নাগ অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলের (ATGM) একটি আধুনিক সংস্করণ (Modern Version)। উত্তর ভারতের কাশ্মীর এবং লাদাখের মতো উচ্চ পার্বত্য এলাকায় সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত রাখতে এটি সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনার তুরুপের তাস হতে চলেছে।
ধ্রুবাস্ত্রের ইতিহাস বেশ গৌরবময়। এটি ভারতের সুসংহত গাইডেড মিসাইল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (IGMDP) অংশ। আশির দশকে কিংবদন্তি বিজ্ঞানী ডঃ এপিজে আবদুল কালাম এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরিকল্পনা (Planning) করেছিলেন। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তৃতীয় প্রজন্মের ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ (Fire and Forget) সিস্টেম। এর মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু একবার লক (Lock) হয়ে গেলে ক্ষেপণাস্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটিকে ধাওয়া করে ধ্বংস করতে সক্ষম।
এই মিসাইলটি অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়া এবং রাতের অন্ধকারেও শত্রুর সাঁজোয়া যান (Armoured Vehicle) বা ট্যাঙ্কের তাপ সনাক্ত (Heat Detection) করতে পারে। ৭ কিলোমিটার পরিসীমার (Range) এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪৩ কেজি ওজনের এবং এটি ৮০০ মিলিমিটার পুরু ইস্পাতের প্লেটও ভেদ করতে সক্ষম। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রুদ্র ও প্রচণ্ডের মতো অ্যাটাক হেলিকপ্টার (Attack Helicopter) থেকে ধ্রুবাস্ত্র নিক্ষেপ করা যাবে। ভারত সরকার ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০টিরও বেশি ধ্রুবাস্ত্র কেনার অনুমোদন (Approval) দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্তর্ভুক্তিতে সীমান্তে ভারতের প্রতিরক্ষা কবচ আরও নিশ্ছিদ্র হবে।


