মহাকাশে রেকর্ড সৃষ্টি: স্পিনলঞ্চের মাধ্যমে একসঙ্গে উৎক্ষেপণ হবে শতাধিক স্যাটেলাইট
Connect with us

বিজ্ঞান

মহাকাশে রেকর্ড সৃষ্টি: স্পিনলঞ্চের মাধ্যমে একসঙ্গে উৎক্ষেপণ হবে শতাধিক স্যাটেলাইট

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে একসঙ্গে শত শত ‘মাইক্রোস্যাটেলাইট’ পাঠানোর যুগান্তকারী পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি স্টার্টআপ স্পিনলঞ্চ। স্টার্টআপটি একধরনের বিশাল ঘূর্ণনক্ষম কামান তৈরি করেছে, যেটি স্যাটেলাইটগুলোকে অবিশ্বাস্য গতিতে মহাকাশে পাঠাবে, যেন একেকটা স্যাটেলাইট হয়ে উঠবে মহাকাশগামী প্যানকেক!

মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রচলিত ব্যয়বহুল ও জ্বালানিনির্ভর ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে স্পিনলঞ্চের ‘ঘূর্ণন কামান প্রযুক্তি’ দারুণ এক সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। এই যন্ত্রটি একটি বায়ুশূন্য চেম্বারে স্যাটেলাইটকে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার গতিতে ঘোরাতে ঘোরাতে ছুড়ে ফেলবে মহাকাশে। এতে জ্বালানি ব্যবহার একেবারেই কম, বরং নির্ভর করছে কেবল ঘূর্ণনশক্তির ওপর। প্রাথমিক গতিতে কামান ছুঁড়ে দিলেও পুরোপুরি কক্ষপথে পৌঁছাতে প্রয়োজন হবে রকেটের নিজস্ব ইঞ্জিনের সাহায্য। এই মিশন সফল হলে এটি হবে ইতিহাসে একসঙ্গে সর্বাধিক সংখ্যক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের রেকর্ড। বর্তমান রেকর্ডটি রয়েছে স্পেসএক্সের, যারা ২০২১ সালে একবারে ১৪৩টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছিল।

আরও পড়ুনঃসুপারি বাগানে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিহত, আত্মরক্ষায় গুলি ছোড়ে খাসিয়ারা

স্পিনলঞ্চের দাবিমতে, তাদের এই পদ্ধতিতে প্রতি কিলোগ্রাম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে খরচ হবে ১,২৫০ থেকে ২,৫০০ ডলার—যা স্পেসএক্সের খরচের প্রায় অর্ধেক। উল্লেখযোগ্যভাবে, এতে কোনো রাসায়নিক জ্বালানি ব্যবহৃত হয় না, যার ফলে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন প্রায় শূন্য। এ ছাড়াও, কোনো বুস্টার রকেট ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকায় মহাকাশের ‘স্পেস জাংক’ বা আবর্জনার পরিমাণও কমবে। ফলে এটি হবে আরও নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব একটি উদ্যোগ। স্পিনলঞ্চ জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে ‘মেরিডিয়ান স্পেস’ নামের নিজস্ব স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন গড়ে তুলবে, যেখানে থাকবে ১ হাজার ২০০-রও বেশি মাইক্রোস্যাটেলাইট। এই কনস্টেলেশনের প্রথম ২৫০টি স্যাটেলাইট তৈরি করছে ন্যানোঅ্যাভিওনিক্স। প্রত্যেকটি স্যাটেলাইট চ্যাপ্টা আকৃতির এবং মাত্র ৭০ কেজি ওজনের, যা সহজেই স্তূপ করে রাখা যাবে।

Advertisement
ads

গত ৩ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটি কংসবের্গ ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস-এর কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার অর্থায়ন পেয়েছে, যার ফলে তাদের মোট অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ডলার। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মহাকাশে অতিরিক্ত স্যাটেলাইট পাঠানোর ফলে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত রেডিও সংকেত ও আলোকদূষণের কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

২০২৬ সালের মধ্যেই স্পিনলঞ্চ একসঙ্গে শত শত স্যাটেলাইট পাঠিয়ে একটি নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের লক্ষ্য, দৈনিক পাঁচটি বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করার জন্য একটি ১০০ মিটার প্রশস্ত নতুন ‘অরবিটাল অ্যাক্সিলারেটর’ তৈরি করা।

Continue Reading
Advertisement