দেশের খবর
হাসপাতাল থেকে খোলা চিঠিতে তিন শর্ত সোনম ওয়াংচুকের! একটি মানলেই অনশন ভাঙতে প্রস্তুত
ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ অনশনের পর অবশেষে অনশন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিলেন পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে তার আগে কেন্দ্র সরকারকে তাঁর দেওয়া তিনটি শর্তের মধ্যে অন্তত একটি পূরণ করতে হবে। দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে (Safdarjung Hospital) ভর্তি অবস্থায় হাতে লেখা একটি খোলা চিঠি (Open Letter) প্রকাশ করে তিনি এই বার্তা দিয়েছেন।
চিঠিতে ওয়াংচুক জানিয়েছেন, প্রথমত কেন্দ্রকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার (Education System) সাম্প্রতিক ব্যর্থতা এবং বিশেষ করে NEET প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁকে এবং ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) নেতৃত্বকে সংসদে (Parliament) যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে, যাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা বিষয়টি সংসদে আলোচনার আশ্বাস দেন। আর যদি শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁর সংসদে যাওয়া সম্ভব না হয়, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের হাসপাতালে এসে একই আশ্বাস দিতে হবে। এই তিনটির মধ্যে যেকোনও একটি বাস্তবায়িত হলেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
WHEN WILL I END THE FAST….!
Not withstanding my health my fast continues till after the Sansad Chalo March, and will be broken only under the following circumstances… pic.twitter.com/kaOGx2Nk4T— Sonam Wangchuk (@Wangchuk66) July 20, 2026
সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন (Monsoon Session)। একই দিনে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিরও ডাক দেওয়া হয়েছে। ওয়াংচুক তাঁর সমর্থকদের ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দাবি পূরণ না হলে সংসদ অভিযানের পরেও তাঁর অনশন চলবে।
গত ১৮ জুলাই অনশনের ২১তম দিনে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লি পুলিশ তাঁকে যন্তর মন্তর (Jantar Mantar) থেকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের দাবি, তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যদিও পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি এখনও কোনও তরল খাবার গ্রহণ করেননি।
এর আগে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আঙ্গমোও জানিয়েছিলেন, শিক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনার নিশ্চয়তা এবং সরকারের জবাবদিহির আশ্বাস মিললে সোনম অনশন ভাঙতে পারেন।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ সংসদ ভবনের দিকে মিছিলের অনুমতি দেয়নি। সংসদ চত্বর ও আশপাশে কড়া নিরাপত্তা (Security) ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া আন্দোলনকারীরা এগোলে পুলিশি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে ওয়াংচুকের তিন শর্তের প্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।
