শীতে সুস্থ থাকার সহজ ও কার্যকর আয়ুর্বেদিক নিয়ম: ডাঃ সোমনাথ দত্ত
Connect with us

স্বাস্থ্য

শীতে সুস্থ থাকার সহজ ও কার্যকর আয়ুর্বেদিক নিয়ম: ডাঃ সোমনাথ দত্ত

Dipa Chakraborty

Published

on

শীতকাল এলেই সর্দি-কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা, জয়েন্ট পেইন, শুষ্ক ত্বক ও হজমের সমস্যায় ভোগেন বহু মানুষ।  আয়ুর্বেদ বলছে এই সময়ে বাত রোগ বাড়ে এবং কফ জমে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে, ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং আগে যে সমস্যাগুলো ছিল সেগুলো আবার জটিলতা দেখাতে পারে। তবে কিছু সহজ আয়ুর্বেদিক ঘরোয়া নিয়ম মেনে চললেই শীতেও সুস্থ থাকা যায় এবং অনেকক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই শরীর ঠিক রাখা যায়।

শীতকালে সুস্থ থাকার জন্য কিছু আয়ুর্বেদিক পরামর্শ নিচে পয়েন্ট আকারে দেয়া হলো—

১ – উষ্ণ জল পান অভ্যাস করুন

শীতকালে ঠান্ডা জল পেলে হজম দুর্বল হয় এবং সর্দি-কাশি বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন হালকা উষ্ণ জল পান করা ভালো।

Advertisement
ads ads

এখানে—

  • হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়
  • গ্যাস ও অম্বল কমে
  • কোষ্ঠকাঠন্য কম হয়
  • শরীরের দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায়

সকালে খালি পেটে উষ্ণ জলে একটু আমলকি চূর্ণ মিশিয়ে খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

২️ –  তেল মালিশ (অভ্যঙ্গ) করুন

শীতকালে শুষ্কতা ও বাতজনিত ব্যথা কমাতে প্রতিদিন বা অন্তত সপ্তাহে ৩–৪ দিন তেল মালিশ করা উচিত।

  • তিলের তেল
  • সরিষার তেল
  • সরিষার তেলে ৪-৫ কুয়ো রসুন গরম করে

বিশেষ করে হাঁটু, কোমর, কাঁধ ও ঘাড়ে মালিশ করলে জয়েন্ট পেইন ও ফ্রোজেন শোল্ডারের সমস্যা কমে।

৩️ – উষ্ণ ও সহজপাচ্য খাবার খান

Advertisement
ads ads

আয়ুর্বেদ মতে শীতে অগ্নি তুলনামূলক শক্তিশালী থাকে, তাই এই সময় উষ্ণ ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার।

খাবারে অন্তর্ভুক্ত করুন—

  • আদা
  • গোলমরিচ
  • জিরে
  • দারুচিনি

খুব ঠান্ডা পানীয়, ফ্রিজের খাবার ও অতিরিক্ত দই এড়িয়ে চলা উচিত।

৪️ – শীতে রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে আয়ুর্বেদিক হার্বস

শীতকালে কিছু বিশেষ আয়ুর্বেদিক হার্বস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবে বাড়াতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত ও সঠিক মাত্রায় এই ভেষজগুলি গ্রহণ করলে সর্দি–কাশি, জ্বর ও দুর্বলতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

Advertisement
ads ads
  • আমলকি: ভিটামিন C সমৃদ্ধ, কাশি ও সর্দিতে উপকারী
  • গুডুচি (গুলঞ্চ): জ্বর ও দুর্বলতা কমায়
  • অশ্বগন্ধা: দেহ শক্তিশালী করে ও স্ট্রেস কমায়
  • যষ্টিমধু: গলা ব্যথা ও শুকনো কাশিতে উপকারী

চিকিৎসকের পরামর্শে এগুলো ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

৫️ –  বাদাম, তিল ও খেজুর খান

শীতকালে শরীরের শক্তি বজায় রাখতে প্রাকৃতিক ফ্যাট ও মিনারেল প্রয়োজন। যা পাওয়া যাবে ঘরে থাকা কিছু খাবার এই।

প্রতিদিন সীমিত পরিমাণে খান—

  • বাদাম
  • আখরোট
  • তিল
  • খেজুর

এগুলো হাড় শক্ত রাখে এবং শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে।

৬️ –  প্রণায়াম ও হালকা ব্যায়াম করুন

Advertisement
ads ads

শীতের সময় অনেকেই ব্যায়াম বন্ধ করে দেন, যা ঠিক নয়।

প্রতিদিন করুন—

  • অনুলোম-বিলোম
  • ভস্ত্রিকা
  • হালকা যোগাসন
  • ২০–৩০ মিনিট হাঁটা

এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ওজন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৭️-  সর্দি-কাশির ঘরোয়া আয়ুর্বেদিক প্রতিকার

শীতকালে সর্দি – কাশির সমস্যা ঘরে ঘরে। শুরুতেই চিকিৎসা নিলে সমস্যা বাড়ে না।

Advertisement
ads ads

কার্যকর কিছু উপায়—

  • আদা-তুলসি-বসাক পাতার ক্বাথ
  • হলুদ মেশানো গরম দুধ
  • মধু ও যষ্টিমধু চূর্ণ

এই প্রতিকারগুলো প্রাথমিক অবস্থায় খুব ভালো কাজ করে এবং কফ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তবে উপসর্গ বেশি দিন স্থায়ী হলে বা জ্বর বেশি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৮️ – সূর্যালোক গ্রহণ করুন

শীতকালে ভিটামিন D-এর ঘাটতি দেখা যায়।

প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিট রোদে থাকলে—

Advertisement
ads ads
  • হাড় মজবুত থাকে
  • রোগ প্রতিরোধ বাড়ে
  • বিষণ্ণতা কমে

এছাড়াও সূর্যালোক দেহের বিপাক সচল রাখে এবং  শরীরের অগ্নি শক্তি জাগ্রত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত রোদে থাকলে শীতজ সংক্রমণজনিত ক্লান্তি ও দুর্বলতা কমানোর ক্ষেত্রে এটা বিশেষভাবে উপকারী।

শীতকালে সুস্থ থাকা কোনো জটিল আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা নয়—সঠিক খাওয়া, নিয়মিত জীবনযাপন আর কিছু প্রাকৃতিক হার্বসই যথেষ্ট। আয়ুর্বেদ শেখায় রোগ বোঝাই হওয়ার চেয়ে তার প্রতিরোধ করা বেশি জরুরি। দৈনন্দিন স্বভাব প্রতিষ্ঠায় সামান্য বদলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ঋতু বদলের ক্ষতিকর প্রভাব কমে। তাই পুরোপুরি ওষুধের ওপর নির্ভর না করে সচেতন জীবনযাপন ও প্রকৃতিনির্ভর আয়ুর্বেদিক নিয়ম মেনে চললে শীতকাল সুস্থ শরীরে আর শান্ত মনে উপভোগ করা যাবে।

 

 

 

Advertisement
ads ads
Continue Reading
Advertisement ads