বারাণসী গণধর্ষণ কাণ্ডে রিপোর্ট তলব মোদীর, ৬ দিনে ২৩ জন কারা?
Connect with us

বিশ্বের খবর

বারাণসী গণধর্ষণ কাণ্ডে রিপোর্ট তলব মোদীর, ৬ দিনে ২৩ জন কারা?

Dwip Narayan Chakraborty

Published

on

নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে ১৯ বছরের মেয়েকে গণহত্যা মামলার রিপোর্ট তলব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। এক নাবালিকাকে ৬ দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় ২৩ জন গণধর্ষণ করে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বারাণসীতে পৌঁছতেই বিমান থেকে নামার পর তিনজনের কাছে গণধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত জানতে চান প্রধানমন্ত্রী মোদী। ঠিক কি ঘটেছিলো উত্তরপ্রদেশে?

উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে গত ২৯শে মার্চ ঘটেছে এক রুদ্ধশ্বাস ও মর্মান্তিক ঘটনা। মাত্র ১৯ বছর বয়সি দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে সাত দিন ধরে আটকে রেখে ২৩ জন মিলে গণধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তরুণী পিশাচমোচন এলাকার একটি হুক্কা বারে পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে দেখা করতে যান। তারপর সেই ছেলের সাথে একটি টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছিলেন ছাত্রী। তারপর সেখানেই আরও কয়েকজন যুবকের সঙ্গে আলাপ হয়। তরুণীর অভিযোগ, কোল্ড ড্রিঙ্কে মাদক মিশিয়ে তাঁকে বেহুঁশ করে একাধিক হোটেল ও জায়গায় নিয়ে গিয়ে টানা সাত দিন ধরে একের পর এক নরকযন্ত্রণা চালানো হয়েছে তার ওপর।

তরুণী জানিয়েছেন, ওই দিন তরুণীকে বেহুঁশ করার পর সিগ্রা এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই প্রথমবার তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। এরপর ৩০ মার্চ অন্য এক জায়গায় নিয়ে গিয়ে ফের ধর্ষণ করা হয়। ৩১মার্চ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মালদহিয়ার একটি ক্যাফেতে। অভিযোগ, সেখানে তাকে আবার মাদক খাইয়ে পাঁচজন মিলে গণধর্ষণ করে। ১ এপ্রিল ফের পাঁচজন যুবক একটি হোটেলে গণধর্ষণে লিপ্ত হয়।

Advertisement
ads

হোটেল থেকে বেরোনোর চেষ্টা করলে আরেক ব্যক্তি তাঁকে জোর করে অন্য একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এবং পরে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর আরও তিনজন তাঁকে তুলে নিয়ে যায় ঔরঙ্গাবাদের একটি গুদামে। সেখানে আবারও গণধর্ষণ করা হয়। পরে তাঁকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে দু’জন মিলে ধর্ষণ করে।

অবশেষে, কোনওভাবে পালিয়ে সিগ্রার একটি মলের সামনে এসে বসে মেয়েটি। কিন্তু সেখানেও থামে না পৈশাচিকতা। ২ এপ্রিল দু’জন যুবক তাকে নুডলসের সঙ্গে মাদক খাইয়ে আবার ধর্ষণ করে এবং আসি ঘাটে ফেলে দেয়। পরদিন ৩ এপ্রিল, কোনমতে তরুণী এক বন্ধুর বাড়িতে পৌঁছন। তবে অতিরিক্ত মাদক দেবার কারণে, বন্ধুর বাড়িতেই নেশার ঘোরে ঘুমিয়ে পড়লে সেই বন্ধু তাঁকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে ফের গণধর্ষণ করে এবং তাঁকে চৌকাঘাটে ফেলে দেয়।

অবশেষে ৪ এপ্রিল কোনওরকমে বাড়ি ফিরে আসেন নির্যাতিতা। পরিবারের কাছে সব কিছু খুলে বলার পর সোজা থানায় যান তাঁরা। তার ভিত্তিতে দায়ের হয় এফআইআর। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায়—যেমন ৭০(১) (গণধর্ষণ), ১২৬(২) (অন্যায়ভাবে আটকে রাখা), ১২৩ (মাদক প্রয়োগ) সহ অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

আরও পড়ুন – মৌলবীর ডাকে জুতা চুড়ির আন্দোলন এইবার পাকিস্তানেও! ইজরায়েলের আগুন পাকিস্তানে

Advertisement
ads

পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষাও হয়েছে। প্রমাণ সংগ্রহে বিভিন্ন জায়গা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসিপি বিদুষ সাক্সেনা জানান, ৬ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি। এই ঘটনার পর যোগী সরকারের নারী সুরক্ষা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ক্ষোভের ঝড়। গণধর্ষণকারীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব সাধারণ মানুষ।
এবার এই ঘটনায় বারানসিতে পৌঁছে রিপোর্ট তলব করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গণধর্ষণ কাণ্ডে ১২জন অভিযুক্তের নাম পাওয়া গিয়েছে। বাকি ১১জন অভিযুক্তের নাম এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। পুলিশ ইতিমধ্য়েই ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। প্রধানমন্ত্রী তিন আধিকারিককে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, যে গণধর্ষণের ঘটনায় সব অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে অবিলম্বে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তাও নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন – বাংলার রাজনীতিতে নক্ষত্র পতন! প্রয়াত ‘চাষার ব্যাটা’ খ্যাত রেজ্জাক মোল্লা