ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার অন্যতম মূলচক্রী তাহাউর হুসেন রানাকে অবশেষে ভারতের হাতে তুলে দিল আমেরিকা। কোমরে ও পায়ে শিকল, পরনে কয়েদির পোশাক—সেই অবস্থাতেই আমেরিকার পুলিশ রানাকে হস্তান্তর করে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের হাতে। এই নাটকীয় মুহূর্তের ছবি এবার প্রথমবার প্রকাশ করল আমেরিকার বিচার দফতর।
ছবিতে দেখা গেছে, সম্ভবত আমেরিকার কোনও সেনাঘাঁটিতে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যদিও নিরাপত্তার কারণে স্থানটির নাম গোপন রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশেষ বিমানে রানাকে নিয়ে দিল্লি পৌঁছায় এনআইএ-র বিশেষ দল। বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেফতার করে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির এনআইএ সদর দফতরে। সেখানে তাঁকে রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সেলে, এনআইএ-র তরফেই সরবরাহ করা হচ্ছে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। দিল্লির বিশেষ আদালতে পেশ করা হলে বিচারক রানাকে ১৮ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলার রাজনীতিতে নক্ষত্র পতন! প্রয়াত ‘চাষার ব্যাটা’ খ্যাত রেজ্জাক মোল্লা
রানাকে ভারত আনার দায়িত্বে ছিলেন ডিআইজি জয়া রায়ের নেতৃত্বাধীন ১২ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল। রানার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় ডিআইজি রায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে এনআইএ। তাহাউর রানাকে আনতে ব্যবহার করা হয় ‘জি৫৫০ জেট’ নামের একটি বিশেষ বিমান। বুধবার সেই বিমান উড়ে আসে আমেরিকা থেকে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে এটি অবতরণ করে রোমানিয়ার বুখারেস্টে। ১১ ঘণ্টা স্টপওভার শেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে আবার ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বিমানটি। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট নাগাদ সেটি দিল্লির পালম বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
রানার প্রত্যর্পণের পর একটি বিবৃতিতে এনআইএ জানায়, “২০০৮ সালের মুম্বই হামলার অন্যতম মূলচক্রী তাহাউর হুসেন রানাকে বিচারের মুখোমুখি করতে বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রচেষ্টা চলছিল। অবশেষে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।” রানার প্রত্যর্পণ ভারতের তদন্ত প্রক্রিয়ায় এক বড় জয় বলেই মনে করছে গোয়েন্দা মহল। এখন সকলের নজর এনআইএ-র জেরায় রানার মুখে কী তথ্য উঠে আসে, তার দিকেই। ১৮ দিনের হেফাজত শেষে রানা সম্ভবত পাঠানো হবে দিল্লির তিহাড় জেলে।
এই প্রত্যর্পণ কেবল তদন্তের গতিপথই বদলাবে না, ২৬/১১ হামলার এক দশকেরও বেশি সময় পর আবার নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে ওই ভয়াবহ জঙ্গি হানার পর্দার আড়ালের কাহিনি।