ভাইরাল খবর
ডুবন্ত তরী বাঁচাতে মরিয়া তৃণমূল? সোনিয়া-মমতার পর এবার রাহুলের শরণাপন্ন অভিষেক
ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের (Political crisis) মাঝেই এবার জাতীয় রাজধানীতে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর দীর্ঘ বৈঠকের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ১০ জনপথের বাসভবনে হাজির হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই হাই-প্রোফাইল (High-profile) বৈঠককে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে (Political circles) জল্পনা তুঙ্গে।
সরকারিভাবে এই সাক্ষাৎকে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সমন্বয় রক্ষার সাধারণ প্রক্রিয়া বলা হলেও, ভেতরের সমীকরণ অত্যন্ত জটিল। একদিকে কলকাতার কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে রাজ্য সিআইডি (CID) ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছে। অন্যদিকে, দলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের (Members of Parliament) মধ্যে অন্তত ২০ জন বিদ্রোহী হয়ে এনডিএ (NDA) শিবিরে পা বাড়িয়েছেন বলে খবর। এই সাঁড়াশি চাপের মুখেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কংগ্রেসের হাত খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরতে চাইছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এমনকি রাজনৈতিক গুঞ্জন (Rumors) এমনও যে, অস্তিত্ব রক্ষার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদলবলে তৃণমূলকে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন, যেখানে শীর্ষ পদে পুনর্বাসনের প্রস্তাবও রয়েছে।
দিল্লিতে যখন এই বৈঠক চলছে, ঠিক তখনই তৃণমূল শিবিরে আছড়ে পড়েছে আরও এক বড় ধাক্কা। সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ এবং দলের সমস্ত দায়িত্ব থেকে ইস্তফা (Resignation) দিলেন উত্তর-পূর্ব ভারতের হেভিওয়েট নেত্রী সুস্মিতা দেব। ইস্তফা দিয়েই তিনি সটান দেখা করেছেন অসমের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে, যা তাঁর দলবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে রাজ্যে বিদ্রোহ ও কেন্দ্রীয়-রাজ্য এজেন্সির তৎপরতা, অন্যদিকে একের পর এক শীর্ষ নেতার পদত্যাগ— এই চরম ডামাডোলের মধ্যে দিল্লির বুকে তৃণমূল-কংগ্রেসের এই নতুন রসায়ন আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতি কোন দিকে ঘোরায়, সেটাই এখন দেখার।
