‘রেডিমেড’ পণ্য ঢুকবে শুধু সমুদ্রপথে, ভারতের নির্দেশে চাপে বাংলাদেশি ব্যবসা
Connect with us

বাংলাদেশ

‘রেডিমেড’ পণ্য ঢুকবে শুধু সমুদ্রপথে, ভারতের নির্দেশে চাপে বাংলাদেশি ব্যবসা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ  ভারতের তরফে একাধিক স্থলবন্দরে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশে বিধিনিষেধ জারির পর এবার প্রতিক্রিয়া জানালেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক সংক্রান্ত উপদেষ্টা শেখ বশিরুদ্দিন (Sheikh Bashiruddin)। সোমবার তিনি সাংবাদিকদের জানান, “এখনও পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত কোনও অফিসিয়াল বার্তা আমরা পাইনি। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানার পরই আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব। সমস্যা দেখা দিলে, দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাবে।”

তবে গোটা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশি রফতানিকারকদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, ভারতের এই পদক্ষেপ সরাসরি আঘাত হানবে বাংলাদেশি বাণিজ্যে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলো-র (Prothom Alo) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে স্থলপথের উপর ভারতের একতরফা নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশি পণ্যের গতি ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান (Mahbubur Rahman) প্রথম আলো-কে জানান, “আমরা আশা করি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে সৌহার্দ্য বজায় থাকবে। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি। ভারত যদি এভাবে একতরফা পদক্ষেপ নিতে থাকে, তবে উভয় পক্ষেরই ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমরা ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসব।’’

তিনি আরও দাবি করেন, “এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরাই কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ জানাতে পারেন, কারণ এতে তাঁদেরও ক্ষতি হচ্ছে।”

Advertisement
ads

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের চর জ্যোতি! ISI প্রশিক্ষণ, লস্করের ঘাঁটি, জম্মু সফর—উদ্বিগ্ন গোয়েন্দারা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা কী বলছে?

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীন বৈদেশিক বাণিজ্য দফতর (DGFT) যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ‘রেডিমেড গার্মেন্টস’ (Ready-made Garments) শুধুমাত্র কলকাতা ও মুম্বইয়ের নৱশেবা (Nava Sheva) সমুদ্রবন্দর দিয়েই ভারতে প্রবেশ করতে পারবে।

তাছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য যেমন অসম (Assam), মেঘালয় (Meghalaya), ত্রিপুরা (Tripura) ও মিজোরাম (Mizoram)-এর কোনও স্থলবন্দর বা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (ICP), এবং পশ্চিমবঙ্গের ফুলবাড়ি (Phulbari) ও চ্যাংরাবান্ধা (Changrabandha) স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের পণ্য যেমন ফলমূল, কার্বোনেটেড পানীয় (carbonated drinks), কাঠের আসবাব, স্ন্যাকস, চিপস এবং সূতিজাত সামগ্রী ঢুকতে দেওয়া হবে না।

পাল্টা প্রতিক্রিয়া কি ছিল বাংলাদেশে?

এর আগে বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইউনুসের (Mohammad Yunus) প্রশাসন উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল বলে সূত্রের খবর। এমনকি হিলি (Hili) এবং বেনাপোল (Benapole) স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় চালের প্রবেশেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। অনেকের মতে, ভারতের এই নতুন পদক্ষেপ সেই নিষেধাজ্ঞারই পাল্টা প্রতিক্রিয়া।

Advertisement
ads

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলে স্থলপথে যেসব পণ্য তিন দিনে রফতানি হতো, তা বন্দরপথে পাঠাতে লাগবে দুই সপ্তাহ, ফলে খরচ এবং সময়—দুটোই বাড়বে।

এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক স্তরে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে দুই দেশের মধ্যে দ্রুত আলোচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। আলোচনার মাধ্যমে কোনও সমঝোতা না হলে, আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Continue Reading
Advertisement