দেশের খবর
পহেলগাঁও হামলার জবাবের পর ক্ষতিগ্রস্ত কাশ্মীরে মানবিক বার্তা তৃণমূলের, প্রতিনিধি দল রওনা
ডিজিটাল ডেস্কঃ পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) অভিযান এবং তার জবাবে পাকিস্তানের পাল্টা হামলার ফলে জম্মু-কাশ্মীরের বহু এলাকায় বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। এবার সেই ক্ষতিগ্রস্ত ও স্বজনহারা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার (২২ মে) জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ, রাজৌরি এবং শ্রীনগরে যাচ্ছে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। ওই দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien), মহম্মদ নাদিমুল হক (Mohammad Nadimul Haque), সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghose) এবং রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া (Manas Bhuniya)। জানা গিয়েছে, তাঁরা আগামী ২৩ মে পর্যন্ত কাশ্মীরে অবস্থান করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন।
আরও পড়ুনঃ ‘রেডিমেড’ পণ্য ঢুকবে শুধু সমুদ্রপথে, ভারতের নির্দেশে চাপে বাংলাদেশি ব্যবসা
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, ‘‘এই কঠিন সময়ে, দল মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনীতি নয়, এই মুহূর্তে মানবিকতার প্রয়োজন।’’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আগেও বলেছিলেন, “দেশ আগে, দল নয়।” সেই বার্তাকেই সামনে রেখেই দলীয় প্রতিনিধিদের পাঠানো হচ্ছে।
Under the guidance of AITC Chairperson @MamataOfficial, a 5-member delegation will be proceeding to Srinagar, Poonch, and Rajouri
The delegation comprising @derekobrienmp @MdNadimulHaque6 @ManasB_Official @sagarikaghose and Mamata Thakur, will be in the region from May 21 to 23…
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) May 20, 2025
প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে লস্কর-ঘনিষ্ঠ সংগঠন টিআরএফ (TRF)-এর নিরিহ যাত্রীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যাতে মৃত্যু হয় ২৬ নিরস্ত্র নাগরিকের। পরে জানা যায়, কাশ্মীরের এক স্থানীয় যুবক ওই জঙ্গিদের পথপ্রদর্শকের ভূমিকা নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়। পাকিস্তান এবং পিওকে-র ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় সেনা। জবাবে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু ও সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করলেও জম্মু-কাশ্মীরের কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষের উপর বিপুল প্রভাব পড়ে।
গোটা অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১০০-রও বেশি জঙ্গি এবং ৩৫-৪০ জন পাক সেনা নিহত হয়েছে বলে সামরিক সূত্রের দাবি। পাকিস্তানের বায়ুসেনা ঘাঁটিগুলিও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। শেষমেশ ইসলামাবাদের অনুরোধে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় ভারত।
