প্রতারণা
পাকিস্তানের চর জ্যোতি! ISI প্রশিক্ষণ, লস্করের ঘাঁটি, জম্মু সফর—উদ্বিগ্ন গোয়েন্দারা
ডিজিটাল ডেস্কঃ পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত হরিয়ানার (Haryana) বাসিন্দা জ্যোতি মলহোত্রা (Jyoti Malhotra) সম্পর্কে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে গোয়েন্দা তদন্তে। শুধু তথ্য পাচারই নয়, জানা গেছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত (Pak-Afghan Border) পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই কয়েকদিন কাটিয়ে নিয়েছিলেন বিশেষ ট্রেনিং, এমনটাই দাবি সূত্রের।
সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া জ্যোতি নাকি এই গোটা অভিযানে একেবারেই অনুতপ্ত নন। বরং, জিজ্ঞাসাবাদে নিজের কাজের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ‘বাকস্বাধীনতা’র (freedom of expression) প্রসঙ্গ তুলেছেন বলেই দাবি গোয়েন্দাদের। কিন্তু তাঁর কর্মকাণ্ড যত সামনে আসছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, জ্যোতির বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য প্রমাণ থেকে স্পষ্ট, তিনি পাকিস্তান সফরের সময় শুধুমাত্র আইএসআই (ISI)-এর আধিকারিকদের সঙ্গেই দেখা করেননি, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কন্যা মরিয়ম নওয়াজের (Maryam Nawaz) সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাতের ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।
আরও ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে যে, পাকিস্তানে তাঁর যে প্রশিক্ষণ হয়েছিল তা শুধু চরবৃত্তির নয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় চলা জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গেও যুক্ত। এমনকি পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে (Pak-Afghan militant zone) তাঁর যাতায়াত নিয়ে গভীর উদ্বেগে গোয়েন্দারা। কারণ, সেসব জায়গায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ প্রায়, সেখানে কীভাবে পৌঁছলেন জ্যোতি, সেটাই বড় প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে শর্মিষ্ঠার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি
৩৩ বছর বয়সি জ্যোতিকে গত শুক্রবার হরিয়ানার নিউ অগ্রসেন এক্সটেনশন থেকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার আদালতে পেশের পর পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, জ্যোতি মলহোত্রার মতো আরও অন্তত ১০ জনকে আইএসআই প্রশিক্ষণ দিয়ে ভারতে চর হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের প্রশিক্ষণও লস্করের (Lashkar) ঘাঁটিতে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই তথ্য যে, পাকিস্তান থেকে ফিরে জ্যোতি ঘুরে এসেছিলেন জম্মু-কাশ্মীর এবং পহেলগাঁও (Pahalgam)। ঠিক তার কিছু সপ্তাহের মধ্যেই পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়। গোয়েন্দারা এখন সন্দেহ করছেন, সেই হামলার পেছনে সরাসরি জ্যোতির হাত থাকতে পারে। হতে পারে, তিনিই জঙ্গিদের প্রয়োজনীয় তথ্য জুগিয়েছিলেন।
পাশাপাশি আরও জানা গেছে, পাকিস্তানের এজেন্টরা জ্যোতির উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল, যাতে তিনি ভারতে বসেই পাকিস্তানপন্থী প্রচার চালান। শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার নয়, তাঁর কাজ ছিল আরও গভীর এবং স্পর্শকাতর। সেই ‘গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ ঠিক কী ছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এক ভারতীয় ইউটিউবার কীভাবে পাকিস্তানের এত গভীর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারলেন? আর তাঁর মাধ্যমে দেশের কতটা ক্ষতি ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আপাতত তৎপর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।
